Aaj India Desk, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের (TMC) বেশ বড়সড়ই ধাক্কা লেগেছে। তবে উত্তর ২৪ পরগনার নাম যেন খবরের শিরোনাম একটু বেশি উঠে আসছে। এখানকার বারাসত, ব্যারাকপুর-সহ জেলার একাধিক আসনে হেরে গিয়েছে শাসকদল। এবার এই ফলের পরই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি (Subrata Bakshi)-কে পাঠানো চিঠিতে তিনি দলের পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি নাম না করেই দলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইস্তফাপত্রে কাকলি লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দলে দুর্নীতি ও নানা নেতিবাচক বিষয় বেড়েছে। দল পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নতুন আশা কিছু মুখের ওপর সংস্থার অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পরাটাই দলের ক্ষতি করেছে।” তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “আগের মতো সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়ে দল পরিচালনা করলে মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি আবার ভালো হবে।”
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি বলেন, আইপ্যাককে তিনি দলে আনেননি। তবে তিনি দেখেছেন, ওই সংস্থার তরুণ সদস্যদের অনেকেই দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি। তাঁর কথায়, তিনি ১৭ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর অফিস সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য খোলা ছিল। এলাকার সাতটি বিধানসভায় তিনি উন্নয়নের কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন। তাই তিনি ভেবেছিলেন মানুষ দলের পাশে থাকবে। কিন্তু ফলাফল দেখে বুঝেছেন, সাধারণ মানুষ দলকে আর আগের মতো সমর্থন করেনি। তিনি আরও বলেন, দলে নানা স্তরে অসৎ লোকের প্রভাব বেড়েছে। তবে তৃণমূলের আসন সংখ্যা এতটা কমে যাওয়া তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। আন্দোলনের সময়েও বহুবার তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে। তিনি টানা তিনবার বারাসতের সাংসদ হয়েছেন। পাশাপাশি জেলা সভাপতি, মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী এবং লোকসভায় দলের চিফ হুইপের দায়িত্বও সামলেছেন। তবে এবারের বিধানসভা ভোটে দলের খারাপ ফলের পর তাঁকে চিফ হুইপের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কাকলি লেখেন, “চার দশকের আনুগত্যের এটাই পুরস্কার”। এরপরই কেন্দ্রের Y+ সিকিউরিটি নিয়েও ঘুরতে দেখা যায় তাকে। তাই তখন অনেকেই প্রশ্ন করেন যেখানে তৃণমূলের সবার সিকিউরিটি তুলে নেওয়া হচ্ছে সেখানে কেন নতুন করে কেন কেন্দ্রের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে? আর এখন তাঁর এই ইস্তফা। তাই অনেকেই মনে করছেন অনেক আগেই তিনি তার পোষ্টের মাধ্যমেই এই ইঙ্গিতটাই দিয়েছিলেন।


