Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : পশ্চিমবঙ্গের সরকার বদল হতেই সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের ধরপাকড়। একাধিক তৃনমূল নেতা, কাউন্সিলরদের পর এবার গ্রেপ্তার হলেন বিধাননগর পৌরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া (Samrat Barua) ওরফে রাখাল। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে নতুন করে চাপে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
কী কারণে গ্রেপ্তার হলেন সম্রাট ?
একসময় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন সম্রাট বড়ুয়া (Samrat Barua)। পরে দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মহলে জায়গা করে নেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। গত পুরভোটে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন তিনি। তবে কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল এবং প্রোমোটারদের উপর চাপ তৈরির অভিযোগ উঠতে থাকে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাগুইহাটি থানার পুলিশ।
পর পর গ্রেপ্তার দেবরাজের ঘনিষ্ঠরা
মাত্র কয়েকদিন আগেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এক প্রোমোটারকে মারধর এবং তোলাবাজির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক মহলে মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ এবং ডান হাত বলে পরিচিত সম্রাট বড়ুয়ার (Samrat Barua) গ্রেপ্তারি ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা।
এছাড়াও বিধাননগর পৌরনিগমে গত কয়েকদিনে একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নজরে এসেছে। এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের রঞ্জন পোদ্দার। এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের পর বিরোধীরাও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংগঠিত তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছে।
দেবরাজের বিরুদ্ধেই সরব বিজেপি
ঘটনার পরেই বিস্ফোরক রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি দাবি করেন, “এইসব সঙ্গীরা চুনোপুঁটি। তোলাবাজির আসল মাথা দেবরাজ চক্রবর্তী।” তিনি সরাসরি তৃনমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, দেবরাজ চক্রবর্তী তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ফলেই এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য,এর আগেই দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী, তৃণমূল বিধায়ক ও গায়িকা অদিতি মুন্সি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় যুক্ত রয়েছেন। শনিবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, দেবরাজ ও অদিতির সম্মিলিত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এই নিয়ে আগামী ১৯ জুনের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্টও জমা দিতে বলেছে আদালত। এবার এক এক করে দেবরাজের ঘনিষ্ঠদের নিশানা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই মামলা এবং তৃনমূল কাউন্সিলরদের পরিণতি কি হয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


