Aaj India Desk, কলকাতা: বিরোধী দলনেতার ঘর খোলার দাবিতে বিধানসভায় (Assembly) অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন তৃণমূলের বিধায়করা (TMC MLA)। বিধানসভার লবিতে বিরোধী দলনেতার তালাবন্ধ ঘরের সামনে মেঝেতে বসে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। তৃণমূলের দাবি, দ্রুত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Sovondeb Chatterjee) বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর ঘর খুলে দিতে হবে।
আসলে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি ঘিরেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। বিধানসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় রেজুলেশন জমা দেয়নি তৃণমূল। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিধায়কদের সই করা রেজুলেশন আগেই জমা দেওয়া হয়েছে। তবুও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আগেই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল দল। সেই মতো শুক্রবার অবস্থানে বসলেন তৃণমূল বিধায়করা।
এদিন অবস্থান বিক্ষোভে দেখা যায় কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের। তবে বিক্ষোভে অংশ নেন মাত্র ১৮ জন বিধায়ক। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিধায়কদের স্বাক্ষর করা রেজুলেশন জমা দেওয়ার পরও এখনও তাঁকে ঘর দেওয়া হয়নি।
সূত্রের খবর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব স্পিকারের। বর্তমানে তিনি শহরের বাইরে থাকায় বিষয়টি এখনও ঝুলে রয়েছে। স্পিকার কলকাতায় ফিরলেই এই নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিরোধী দলনেতার ঘর পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতার পক্ষে দেওয়া রেজুলেশনে সই করেছেন ৭০ জন বিধায়ক। সেখানে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিধায়কের নাম থাকলেও বাকিদের সই না থাকায় জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগেও কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে কয়েকজন বিধায়কের অনুপস্থিতি নজরে এসেছিল। তাই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, দলের ভিতরে কোনও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে কি না।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। দলের দাবি, কেউ অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির কারণেও অনেকে আসতে পারেননি। তবে দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ বলেই দাবি তৃণমূলের।উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল বিধানসভা সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে জানায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলাবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বিরোধী দলনেতার ঘরও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিধানসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়নি। অন্যদিকে শোভনদেবের বক্তব্য, ৮০ জন বিধায়কের সই চাওয়ার কোনও নিয়মই নেই।


