Aaj India Desk, শিলিগুড়ি: গরুচোর সন্দেহে (Cow Theft Suspicion) দুই যুবককে ধরে গণপিটুনির অভিযোগ। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যজন। শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানার তারাবাড়ি এলাকায় বালাসন নদীর ধারে শনিবার ভোররাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। দুটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোররাতে বালাসন নদীর ধারে কয়েকজন অপরিচিত যুবককে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে গাড়ি ছিল বলে জানা গিয়েছে। ভোররাতে অপরিচিতদের গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ তৈরি হয়। স্থানীয়দের একাংশ তাঁদের গরুচোর সন্দেহে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ। কয়েকজন পালিয়ে গেলেও দু’জনকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে থাকা দুটি গাড়িও আটক করা হয়।
এরপরই আটক দুই যুবককে ঘিরে গণপিটুনি শুরু হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগ, মারধরের জেরে এক যুবকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। অন্য যুবকও গুরুতর জখম হন। তাঁকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, আটক করা দুটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পর সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে মাটিগাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। মৃত যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় মাঝেমধ্যেই গরু চুরির (Cow Theft Suspicion) ঘটনা ঘটে। পরপর কয়েকটি এমন ঘটনার জেরে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে তাঁদের বক্তব্য। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ভোররাতে কয়েকজন অপরিচিত যুবককে গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে ওই দুই যুবক সত্যিই গরু চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং গণপিটুনিতে মৃত্যুর পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্দিষ্টভাবে স্পষ্ট হবে।


