কলকাতা: পুজোর মুখে জমজমাট হওয়ার কথা সোনাগাছির (Kolkata Sonagachi) অলিগলি। অথচ ছবিটা যেন উল্টো। গ্রাহকদের ভিড় কমেছে চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ, রাস্তা থেকে শুরু করে যৌনপল্লির ভিতরেও হামলা, হেনস্তা এবং ছিনতাইয়ের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা, ব্যাগ থেকে গয়না, বিভিন্ন জিনিস লুটের অভিযোগ ঘিরে ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যৌনকর্মীদের রুজি-রুটিতে।
শোভাবাজারের সোনাগাছি (Kolkata Sonagachi) এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ যৌনপল্লি। এখানে সাত হাজারের বেশি যৌনকর্মী থাকেন। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ যৌনকর্মীর যাতায়াত রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একসময় গ্রাহকদের ভিড়ে সরগরম থাকত এলাকা। কিন্তু ২০২০ সালের লকডাউনের পর থেকেই গ্রাহক সংখ্যা কমতে শুরু করে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছিনতাই ও হেনস্তার অভিযোগ।
যৌনকর্মীদের একাংশের দাবি, গত কয়েক মাসে গ্রাহক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁদের অভিযোগ, একটি চক্র গ্রাহকদের হেনস্তা এবং লুটপাটের ঘটনায় জড়িত। এমনকি কিছু যৌনকর্মীর বিরুদ্ধেও গ্রাহকদের ডেকে এনে টাকা, সোনার গয়না বা অন্যান্য সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি যৌনকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে গ্রাহকদের হেনস্তা করছেন।
তবে এই অভিযোগের সঙ্গে সব যৌনকর্মীকে এক করে দেখতে নারাজ সংশ্লিষ্ট সংগঠন। দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বিশাখা লস্করের দাবি, “একটা চক্র এই কাজ করছে। এটা নতুন নয়। বহু বছর ধরে চলছে। ইদানীং এটা খুব বেড়ে গিয়েছে।” তাঁর দাবি, এর জেরে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্রাহক কমে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের জন্য গোটা যৌনপল্লির যৌনকর্মীদের রুজিরুটিতে প্রভাব পড়ছে।
দুর্বারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের নজরেও আনা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, সোনাগাছিতে (Kolkata Sonagachi) ছিনতাইয়ের অভিযোগ তাদের অজানা নয়। তবে পুলিশের দাবি, যাঁরা এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ করতে চান না। ফলে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন পুজোকে ঘিরে। উৎসবের মরশুমে সাধারণত যৌনকর্মীদের আয় বাড়ে। কিন্তু এবার যদি নিরাপত্তার আশঙ্কায় গ্রাহকরা সোনাগাছিমুখী (Kolkata Sonagachi) না হন, তাহলে পুজোর মরশুমেও আয় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা যৌনকর্মীদের একাংশের।
ছিনতাই-হেনস্তার অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, গ্রাহক ও যৌনকর্মী, দুই পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন তাঁদের দাবি। পুজোর আগে সেই নিরাপত্তা ফিরবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।


