Aaj lndia Desk,কলকাতা: বিধানসভা ভোটে আগে হাওড়া – হুগলি জুড়ে শুরু হয়েছিল উন্নয়নের জোয়ার।মহা সমারোহে চলছিল উন্নয়নের মহাযজ্ঞ।রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, টিউবওয়েল সব যেন এক রাতে জাদু করে তৈরি হয়ে যাচ্ছিল।পাড়ায় পাড়ায় উন্নয়নের ঠেলায় ঠিকাদারদের নাকি ঘুম উড়ে গিয়েছিল আর অফিসারদের কাগজপত্র দেখার সময়ই ছিল না । টেন্ডার? সে আবার কী জিনিস!
চাপ ছিল উপরে থেকে নিচে পর্যন্ত চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে আধিকারিকরা সবাই এক মন্ত্রই জপছিলেন “আগে কাজ,পরে নিয়ম”।এদিকে ভোট শেষ, সরকারও বদলেছে এখন সেই সব ঠিকাদারদের অবস্থা চোখে দেখার মত না ,কাজ তো হয়ে গেছে, কিন্তু টাকা কোথায়? এই উত্তর কেউ বলছে “ফাইল আটকে আছে” কেউ বলছে “নতুন সরকার দেখবে”,আবার কেও উদ্বেগ নিয়ে বলছে “এটা কি উন্নয়ন প্রকল্প ছিল, নাকি টেন্ডার ছাড়া টেনশন প্রকল্প”।
সরকারি কাজের নিয়মটা খুব সহজ আগে টেন্ডার, তারপর কাজ। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় সেই সোজা রাস্তাটা একটু বেশি আঁকা বাঁকা । বর্ষার সময় নদীর বাঁধ ভাঙ্গা থেকে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আগে কাজ পরে কাগজ কলমের সই। সেই সময় ঠিকাদারের বাধ্য থাকে নেতা মন্ত্রীদের কথা মত কাজ করতে, তা না হলে সারা বছর রুটি রুচি জুটবে না।
তবে ভোটের সময় তো ছবিটা আরও সিনেমাটিক। তখন উন্নয়ন কাজের গতি এমন হয় যে মনে হয় রাস্তা, ড্রেন, টিউবওয়েল সবই যেন ফাস্ট ফরোয়ার্ড মোডে চলে। টেন্ডার?সেটা তখন অনেকটা অতিথির মতো আসবে পরে, যদি সময় পায়। ঠিক যেমনটা ভোটের আগের উন্নয়নের জোয়ার সাধারণ মানুষের কাছে।
শেষে ঠিকাদারদের অবস্থা এমন দাঁড়ায় কাজ শেষ, ছবি তোলা শেষ, উদ্বোধনও শেষ কিন্তু কাগজ আর টাকা এখনো ওয়েটিং লিস্টে- এ আর ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে হাওড়া হুগলি সহ কলকাতার ঠিকাদারেরা , এবারের চাপ টা যেন আরো বেশি সরকার বদল হয়েছে কাজেই পরিস্থিতি ও রং পাল্টাচ্ছে। তবে পালাবদল হলেও হুগলির ১২টি পুরসভা ও চন্দননগর পুরনিগম এখনও তৃণমূলের দখলে। হাওড়া ও বালি পুরসভায় প্রশাসক বসানো হয়েছে, ফলে সেখানে কার্যত দলীয় প্রভাবই ছিল। পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদেও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।ভোটের আগে পথশ্রী প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার রাস্তা তৈরি হলেও, অনেক কাজ হয়েছে KMDA তত্ত্বাবধানে । কিছু টাকা দেওয়া হলেও এখনও বড় অঙ্কের বকেয়া বাকি রয়েছে। সরকার বদলের পর সেই টাকা পাওয়া নিয়ে চিন্তায় ঠিকাদাররা।


