Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : সম্প্রতি সমাজ মাধ্যম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠার একটি ছবি, যাতে দেখা যায় ১৯৬৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) দেশবাসীকে সোনা না কেনার আবেদন জানিয়েছিলেন। ৫৯ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোনা নিয়ে মন্তব্য ও সরকারি নীতিতে ইন্দিরা গান্ধীর সেই আবেদনের ছাপ স্পষ্ট। এই নিয়েই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
সেই ছবি অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে অতিরিক্ত সোনা আমদানি দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ তৈরি করে। সেই সময় ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) দেশবাসীর কাছে ‘জাতীয় শৃঙ্খলা’ বজায় রাখার আবেদন করেছিলেন। বর্তমান সময়েও ফের মোদী সরকার একই অনুরোধ করেছেন। ২০২৬ এ ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা আমদানিকারক দেশ। কিন্তু আমেরিকা ইরানের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে ভারত। সেই সংকট থেকে মুক্তি পেতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে কিছু আবেদন রাখেন। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সংযমী জীবনযাপনের বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনা সময়ের মতোই সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ করার উপর জোর দিতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বেশি করে গণপরিবহন ব্যবহার, বিদেশ ভ্রমণ কমানো এবং আগামী এক বছরে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সোনা কেনাকাটায় সংযম আনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
এই অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) সাথে তুলনা করে মোদীর সরকারি নীতি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে দেশে। কয়েক দশক পরে নরেন্দ্র মোদীর সংযম, সীমিত ভোগ এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর বার্তায় অনেকেই সেই পুরনো সময়ের ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন।
তবে ভাইরাল হওয়া সেই ছবি আদতে ভুয়ো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি সেই ছবি মোদী সরকারের মন্তব্যকে সমর্থন করতেই তৈরি বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের। সোনা না কেনার বার্তা পেয়ে জনসাধারণের মনে যাতে ক্ষোভ তৈরি না হয় , সেজন্যই কি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর তুলনা টেনে আনতে হলো বিজেপি আইটি সেলকে ? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


