Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বিশ্ব বাজারে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে অস্থিরতা। একের পর এক দেশ জ্বালানির (Fuel) খরচ কমানোর পথে হাঁটছে। কোথাও বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম, কোথাও আবার জরুরি মজুত ব্যবহারের প্রস্তুতি। এর মাঝেই বঙ্গ ভোটের পর রবিবার ভারতেও সাধারণ মানুষকে জ্বালানি কম ব্যবহার অনুরোধ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের মন্তব্যে বড় কোনও জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা স্পষ্ট হওয়ায় চিন্তায় দেশবাসী। তবে সেই চিন্তা কম করতে মঙ্গলবার নতুন তথ্য প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
কী জানালো প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ?
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও দেশের জ্বালানি (Fuel) সরবরাহে এখন কোনও ঘাটতির আশঙ্কা নেই। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রিফাইনারি দেশ এবং চতুর্থ বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারক দেশ হওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম বলেই দাবি সরকারের। বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭০৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্ব বাজারে দামের ওঠানামা হলেও তা সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক সুরক্ষা দেশের হাতে রয়েছে।
কোটি টাকার লোকসান মেনে নিচ্ছে সরকার
সাধারণ মানুষের উপর হঠাৎ যাতে বেশি চাপ না পড়ে, তাই সরকারি তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লোকসান মেনে নিচ্ছে। সেই কারণেই গত ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। অনেক দেশেই ইতিমধ্যে তেলের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। কোথাও ৩০ শতাংশ, কোথাও আবার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সেই তুলনায় ভারতে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।তেল বাঁচাতে এবং দেশের খরচ কম রাখতে কেন্দ্র সরকার নতুন ‘ন্যাশনাল মিশন’ও শুরু করেছে।
তবে সরকারের আশ্বাসের মাঝেও সাধারণ মানুষের চিন্তা কমছে না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামের বহু পরিবারই বলছে, রান্নার গ্যাসের দাম গত কয়েক বছরে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে মাসের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেরই অভিযোগ, আয় সেইভাবে না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সঙ্গে গ্যাসের খরচও বেড়েছে। ফলে জ্বালানি (Fuel) সাশ্রয়ের পরামর্শ দিলেও সাধারণ মানুষের এই পরিস্থিতিতে কি অবস্থা হচ্ছে সেদিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।


