Aaj India Desk, কলকাতা: আরজি কর (RGKar) কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা যেন আড়ালে চলে গিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে সেই মামলার তদন্ত আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই আবার প্রশ্ন উঠছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-এর আকস্মিক মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
রাহুলের মৃত্যুর পর টলিউডের (Tollywood) শিল্পী মহল, আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের তরফে প্রতিবাদ হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনও অসন্তোষ রয়েছে। এদিকে সরকার বদলের পর রাজ্য মহিলা কমিশনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লেখিকা ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রাহুলের মৃত্যুর তদন্তে তেমন গতি চোখে পড়ছে না বলেই দাবি অনেকের।
সম্প্রতি হাওড়া কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, রাহুল তাঁর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। সংগ্রামের সময়ে বহুবার রাহুলের বাড়িতে খেয়েছেন বলেও জানান তিনি। রুদ্রনীলের কথায়, রাহুল তাঁকে অভিনয়ের গুরু হিসেবে মানতেন। তাই নতুন সরকার যেমন আরজি কর মামলার ফাইল আবার খুলেছে, তেমনই রাহুলের মৃত্যুর ঘটনাতেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, শুধু তিনি নন, টলিউডের অনেক সিনিয়র শিল্পী যেমন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে চান মৃত্যুর আসল কারণটা সামনে আসুক।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক বিতর্ক সামনে এসেছে। কখনও শুটিং বন্ধ হয়েছে, কখনও ছবি মুক্তি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, আবার কোনও অভিনেতাকে বয়কট করার অভিযোগও উঠেছে। এইসব ঘটনায় বারবার ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-দের বিরুদ্ধেও একাধিক শিল্পী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে টলিউডের অন্দরের অস্থিরতা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিতে চাইছে নতুন সরকার। সেই কারণেই নবান্নে বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
বৈঠকের পর রুদ্রনীল বলেন, সংস্কৃতি জগতে কিছু মানুষ অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, আগে যেমন সমস্যার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, এখনও তেমন চেষ্টা চলছে। এতে সিনেমা ও সংস্কৃতি জগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাইছে। তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই- ইন্ডাস্ট্রিতে দাদাগিরি, তোলাবাজি ও অযথা চাপ সৃষ্টি বন্ধ করা। যোগ্য শিল্পীরাই যাতে কাজের সুযোগ পান, সেই পরিবেশ তৈরি করতেই নতুন সরকার উদ্যোগ নিতে চাইছে।


