কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটে মাঝে বাকি ৩ দিন। তার আগে শুক্রবার কলকাতাতে জনসভা করলেন রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রে বিরোধী জোটে তৃণমূল-কংগ্রেস সমীকরণ বাংলায় খাটে না, তা সকলেরই জানা। কলকাতার জনসভা থেকে বাংলার ভোটযুদ্ধের ভিন্ন ছবি দাবী করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এদিন তিনি বলেন, “বিজেপি, আরএসএস জানে তাঁদের আসল লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে নয়, বরং কংগ্রেসের সাথে।” এখানেই থামেননি রাহুল।
বরাবরের মত এদিনের জনসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ তোলেন তিনি। উদাহরণ, সেই মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানার। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বললেন, “সমগ্র বাংলা জানে, তৃণমূল দুর্নীতিগ্রস্ত। সারদা চিট ফান্ড, ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীদের বরবাদ করেছে, রোজ ভ্যালি চিট ফান্ড, কয়লা পাচার ইত্যাদি একাধিক অভিযোগ। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি, আরএসএস কোনদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে না। কেন? কারণ ওরা জানে তাঁদের আসল লড়াই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।”
X Link: https://x.com/ANI/status/2048019437425705093
রাহুল (Rahul Gandhi) আরও বলেন, “কারণ তৃণমূল-বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জামিনে জেলের বাইরে থাকতেন। ওনাকে ৫৫-৭০ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হত, ওনার বাড়ি নিয়ে নেওয়া হত”।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের অবস্থান
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে বাম শিবিরের সঙ্গে জোট ত্যাগ করে ‘একলা চলো রে’ শপথ নিয়েছে কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বামেদের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁদের ভোট শতাংশ কমে যাচ্ছে। এবারের বিধানসভা ভোটে ২৯৪-এর মধ্যে ২৮৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। বহরমপুর থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তাঁদেরই মনোবল বাড়াতে ময়দানে নামলেন রাহুল গান্ধী। এখন দেখার, রাহুল গান্ধীর দাবী সত্যি হয়, না কি বামেদের সঙ্গে জোটভঙ্গ করেও শূন্যের কলঙ্ক ঘোচাতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস?


