Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগকে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর কথায়, এবার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শাসন ব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তন আনার দিকে নজর দিতে হবে।
নিট আন্দোলনে (NEET Protest) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি টানা ২৬ দিন অনশন করেন। অবশেষে শনিবার প্রায় এক মাস ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের চাপে কেন্দ্র সরকার নতি স্বীকার করে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোনম বলেন, “একবার যখন সরকারের থেকে সাড়া পেয়েছি, এবার উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। একটা ইস্তফায় সব পাল্টে যায় না। শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। আমি আশা করছি, সরকার যে উদারতার সঙ্গে আমাদের দাবি মেনেছে, এবার বাকিদিকগুলিও তারা ভেবে দেখবে। তবে শুধু শিক্ষা নয়, আমি মনে করি শাসন ব্যবস্থাতেও কিন্তু পরিবর্তন প্রয়োজন। কেন্দ্রকে এবার দেশ চালানোর পদ্ধতি বদলানোর কথা ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “যেখানে ভয় আছে, সেগুলো দূর করতে হবে। ভালবাসা, ভরসা দিয়ে দেশ চালাতে হবে। অন্যায় হতে দেওয়া যাবে না। বরং সত্যের পথে চলতে হবে।”
শনিবার দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীকে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ প্রতিক্রিয়া জানান সোনম ওয়াংচুক। তিনি এই ঘটনাকে “গণতন্ত্রের জয়” বলে উল্লেখ করে লেখেন, “শান্তি, ধৈর্য এবং জেদের জয় হয়েছে এটি। সিজেপি এবং দেশের জেন-জিকে (Gen Z) জানাই অনেক অভিনন্দন। ভয় না পেয়ে দেশের প্রতিটি কোণ থেকে গর্জে ওঠার জন্য সব নাগরিককে ধন্যবাদ।”
একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধু একজন মন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা নয়। তাঁর মতে, পদত্যাগের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা এবং এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরীক্ষার্থীকে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।
এদিকে, কেন্দ্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকও শেষ করেছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভ দাস বলেন, “কেন্দ্রের উপর আস্থা রেখে আমরা এখন থেকেই আন্দোলন প্রত্যাহার করছি। আমি সকল আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করছি যে তাঁরা এবার বাড়ি ফিরে যান। সরকার আমাদের গ্যারান্টি দিয়েছে। ৪ সপ্তাহ পর আবার এনিয়ে আলোচনা হবে।” এর ফলে প্রায় এক মাস ধরে চলা নিট আন্দোলনের আপাত সমাপ্তি হলেও, আন্দোলনের নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে সরকারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।


