Aaj India Desk, হাওড়া : জঙ্গি-যোগের তদন্তে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-যোগে অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হামিমের ‘ডান হাত’ আদিত্য সিং (Aditya Singh) ওরফে রাজুকে। তদন্তকারীদের দাবি, পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলেকে ঘিরে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি করতেন এই আদিত্য সিং।
হামিম-অর্পিতা জেরায় নতুন সূত্র
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম মণ্ডল ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আদিত্যর নাম সামনে আসে। একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে আদিত্যর (Aditya Singh) পরিচয় হয়। পরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেই সূত্রেই আদিত্যকে জঙ্গি চক্রের কাজে যুক্ত করা হয়।
এই তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই খোঁজ নেওয়া শুরু করে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে অভিযান চালিয়ে আদিত্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা তাকে আদালতে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি
এসটিএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আদিত্যর (Aditya Singh) বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের গতিবিধির উপর নজর রাখতেন এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য ও ছবি হামিমের কাছে পাঠাতেন। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই তথ্য কোনও সম্ভাব্য হামলা বা অপহরণের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না।
স্বাধীনতা দিবসের আগে নাশকতার ছক?
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক শেহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন হাওড়ার পিলখানায় পরিবার-সহ ভাড়াবাড়িতে থাকতেন এবং একটি ছোট কারখানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি নিউটাউন হয়ে বর্ধমানে যান। গত সপ্তাহে বর্ধমানের একটি জিম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। এরপর ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অর্পিতা সরকারকে। এই গ্রেপ্তারগুলির পরই তদন্তের সূত্র ধরে আদিত্যর নাম সামনে আসে। এক এসটিএফ আধিকারিকের কথায়, তদন্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ধৃতদের প্রত্যেকের ভূমিকা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের বিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কেউ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও অনুসন্ধান চলছে।


