নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে নিট সহ একাধিক প্রশ্নফাঁস ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্র আন্দোলন (NEET protest)। মুম্বই, কলকাতা, পাটনা, কোচি সহ একাধিক জায়গায় ছড়িয়ে গিয়েছে আন্দোলনের আঁচ। ছাত্রদের দাবী সংসদে শাসক-বিরোধী তরজার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই আবহেই এবার তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।
তাঁর মতে, আজকের যুবসমাজকে শুধুমাত্র নির্দেশ দিয়ে নয়, তাদের সঙ্গে যুক্তি, আলোচনা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলেই এগোতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বিপথগামী বা লক্ষ্যহীন বলে দাগিয়ে না দিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার উপরই জোর দিয়েছেন তিনি। ‘বিশ্ব মাঙ্গল্য সভা’র এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “ক্রমশ প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। আজকের তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আমাদের ছোটবেলায় বাধ্যতার যুগ ছিল, কিন্তু এখন সময় বদলেছে। নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে, তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।”
আরএসএস প্রধানের (Mohan Bhagwat) মতে, তরুণদের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে শুধুমাত্র আদেশ দিলেই চলবে না। তিনি বলেন, “তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে, নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদের বিশ্বাসভাজন হতে হবে। আদেশ নয়, আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।”
ভাগবত আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে একাত্মবোধ ও আপন করে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং আলোচনা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্পর্ক আরও মজবুত করা সম্ভব।” ভাগবত (Mohan Bhagwat) আরও বলেন, “তরুণরা এখন প্রশ্ন করে, তাই তাদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে, সময় দিতে হবে এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাঁর কথায়, “তাদের বিশ্বাসভাজন হতে গেলে আদেশ নয়, আলোচনা করতে হবে। চাপিয়ে দেওয়া নয়, পারস্পরিক সমঝোতাই কাম্য।”
যদিও ভাগবত সরাসরি দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনের (NEET protest) প্রসঙ্গ তোলেননি, তাঁর বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। অনেকের প্রশ্ন, এই বার্তা কি পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকেই দেওয়া? এদিকে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তাঁর দীর্ঘ নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। এক্স-এ তিনি লেখেন, “মোহন ভাগবতজি, যন্তর মন্তরের ঘটনা নিয়ে গত এক মাস ধরে আপনার নীরবতা আপনার উপদেশের চেয়েও বেশি অর্থবহ।”
অন্যদিকে, সংঘের কার্যনির্বাহী সদস্য ইন্দ্রেশ কুমার সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে দাবি করেছেন, চলমান ছাত্র আন্দোলনের (NEET protest) নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তির ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু শক্তি চায় না ভারত একটি শক্তিশালী, উন্নত ও শিক্ষিত রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাক। ফলে আরএসএস নেতৃত্বের দুই ভিন্ন সুর ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


