32.5 C
Kolkata
Monday, June 8, 2026
spot_img

কে গদ্দার? মমতাকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক তৃনমূল বিধায়ক!

Aaj India Desk, কলকাতা : বেশ কয়েকদিন ধরেই তৃণমুলের ভেতরেই তৈরি হয়েছিল আরেকটি দল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই বিদ্রোহী দল মমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সহ তৃণমূলের বিধায়কদের একাংশকে ক্রমাগত ‘বেইমান’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ চলতে থাকে সমাজ মাধ্যমে। এবার তার জবাবে দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে একাধিক রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলে খোদ মমতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তৃণমূলের বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র (Surajit Mitra)।

সোমবার প্রকাশিত দীর্ঘ পোস্টে সুরজিৎ মিত্র (Surajit Mitra) বলেন, তাঁকে ‘গাদ্দার’, ‘বেইমান’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা হলেও সেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার আগে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের কঠিন সময়ে তিনি এবং তাঁর মতো বহু কর্মী দীর্ঘদিন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন, অথচ আজ তাঁদেরই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে।

সুরজিৎ মিত্র (Surajit Mitra) ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে যোগদান ও পরে জোট ছাড়া, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস ভাঙানোর অভিযোগের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তকে যদি ‘বেইমানি’ বলা না হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্তকে কেন সেই তকমা দেওয়া হচ্ছে।

সুরজিৎ মিত্র দাবি করেন, তাঁর সমর্থক ও কর্মীদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও মামলার মুখে পড়েছেন। যারা দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হওয়া কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন। কর্মীদের নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের সম্মান রক্ষা করতে যে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন হবে, তিনি সেই পথই বেছে নেবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে পোস্টের শেষ অংশে সুরজিৎ মিত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবদান এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করলেও রাজনৈতিক জীবনে কৃতজ্ঞতা বোধের দায় কি শুধুমাত্র সাধারণ কর্মীদের ওপরই বর্তায়, নাকি নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন