কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ ভাঙতে ছাব্বিশের ভোটে বিজেপির অন্যতম অস্ত্র ছিল তাঁরই দেখানো ‘নগদ বিলি’! কিন্তু পালাবদলের পর ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের’ ডবল ভাতা দেওয়ার সেই প্রতিশ্রুতিই বিজেপির কাছে কার্যত বুমেরাং-এ পরিণত হয়েছে! প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের বাগডোর হাতে নিয়ে অন্নপূর্ণা ইস্যুতেই (Annapurna Yojana) প্রথম জনরোষের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার!
সময়মতো আবেদন করে যোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রেল-সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজারও মহিলা! এই নিয়ে যদিও শাসক শিবিরের ‘দাবাং’ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ছিল, ভাতা পেয়ে পেয়ে মানুষের ‘অভ্যেস খারাপ হয়ে গেছে’! অন্যদিকে মা-বোনেদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন অগ্নিমিত্রা।
এবার অন্নপূর্ণার (Annapurna Yojana) ৩০০০ টাকা পাওয়ার ক্ষোভ-বিক্ষোভের মাঝে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সময়মতো আবেদন করে যোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন বহু মহিলা। ২০ আগস্টের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও সেই টাকা পৌঁছয়নি।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার হাওড়ার এক অনুষ্ঠান থেকে শমীক কার্যত স্বীকার করে নিলেন, গোটা প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিচ্যুতি হয়েছে। তাঁর দাবি, “কিছু বিচ্যুতি আছে, সিস্টেমের সমস্যা। কোথাও কোথাও সাবোটাজ করার চেষ্টা হচ্ছে।” তবে একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, টাকা পাওয়া থেকে কোনও যোগ্য মহিলাই বঞ্চিত হবেন না। শমীকের কথায়, “২ থেকে ৩ শতাংশ টাকা পাননি। সবাই পেয়ে যাবেন।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, আগামী দিনে আরও প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আওতায় আনা হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃণমূল আমলের ‘সিস্টেমের ত্রুটি’-কেও কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে এমন কারচুপি হয়েছিল যে পুরুষদের নামেও সুবিধা নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেই ব্যবস্থায় স্ক্রুটিনি চালিয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত সময়ে ৩০০০ টাকা পৌঁছল না কেন? প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি সত্যিই কোথাও ‘সাবোটাজ’-এর চেষ্টা? শমীকের মন্তব্যের পর অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা আটকে থাকার রহস্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল।


