Aaj India Desk, বাঁকুড়া: ‘কোন তেল ব্যবহার করছেন?’, ‘খাবার ঢেকে রাখা হয়নি কেন?’—বাঁকুড়ার বিভিন্ন খাবারের দোকানে গিয়ে এমনই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হল ব্যবসায়ীদের। আধিকারিকদের একের পর এক প্রশ্নে অনেকেই অবশ্য স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। কেউ কেউ আবার বললেন, “রোজ ঢাকা দেওয়াই থাকে স্যার।”
এর আগে কালোবাজারি বন্ধ করতে বাঁকুড়া (Bankura) শহরের চকবাজার এলাকায় বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট বিভাগ (Enforcement Department) ও পুলিশ। দোকানে পণ্যের দাম এবং মজুতের পরিমাণ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। এবার নজর ঘোরানো হল শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন খাবারের দোকানের দিকে।
বাঁকুড়া শহরের রাস্তার ধারে এবং বাজার এলাকায় প্রচুর খাবারের দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, অনেক জায়গায় নিয়ম মেনে খাবার তৈরি বা সংরক্ষণ করা হয় না। খাবার তৈরিতে নিম্নমানের তেল, মশলা বা ক্ষতিকর রং-রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি তৈরি খাবার অনেক সময় খোলা অবস্থায় রাখা হয়। ফলে খাবারের উপর মাছি বসার আশঙ্কাও থাকে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার শহরজুড়ে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ও পুলিশ। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানে গিয়ে রান্নার পদ্ধতি, ব্যবহৃত উপকরণ এবং খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।অভিযানে কোথাও নিয়মের ব্যতিক্রম চোখে পড়লে প্রথমবার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। একই ধরনের অনিয়ম ফের ধরা পড়লে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একটি দোকানে গিয়ে এক আধিকারিক ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করেন, “জানেন না খাবার চাপা দিয়ে রাখতে হয়? বাড়িতে কি খাবার আলগা রাখেন?” অন্য একটি দোকানে তেল নিয়ে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “কোন ব্র্যান্ডের তেল ব্যবহার করেন? সর্ষের তেল কিংবা নারকেল তেল ব্যবহার করুন। পাম তেলে ভাজলে ক্যান্সার হবে।”অর্থাৎ, খাবারের দোকানে শুধু দাম বা মজুত নয়, এবার খাবারের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও কড়া নজরদারি শুরু করল প্রশাসন।


