Aaj lndia Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার গ্রন্থাগারে বই ইস্যু ও ফেরত দেওয়ার হিসাব ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রন্থাগারের নথি অনুযায়ী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নামে মোট ১৯টি বই ইস্যু রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি বইই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’র বিভিন্ন খণ্ড। বাকি বইটি ‘সঞ্চয়িতা’। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই বইগুলির কোনওটিই এখনও গ্রন্থাগারের খাতায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ফেরত দেখানো হয়নি।
বইগুলি কোথায়, তা নিয়েই প্রশ্ন
বিধানসভা সূত্রের খবর, বইগুলির বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁর তরফে জানানো হয়, বইগুলি তাঁর বাড়ি বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে নেই। বরং বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারেই বইগুলি রাখা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে গ্রন্থাগারের নথিতে সেগুলি এখনও ‘রিটার্ন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। ফলে বইগুলি বাস্তবে কোথায় রয়েছে এবং সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী, তা আনুষ্ঠানিক ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গ্রন্থাগারের কর্মীদের একাংশ।এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
বিধায়কদের বই ফেরত দেওয়ার নিয়ম কী?
বিধানসভা গ্রন্থাগারের নিয়ম অনুযায়ী, একজন বিধায়ক একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি বই নিতে পারেন। সাধারণত এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সেই বই ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু সূত্রের দাবি, বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২২ জন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কের নামে বই ইস্যু অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন এখনও বিধায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পরেও সব বই ফেরত না আসায় একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। কিন্তু তারপরেও বকেয়া বইয়ের পুরো হিসাব মেলেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বইগুলি কীভাবে উদ্ধার করা হবে, সেটিই এখন গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঐতিহাসিক সংগ্রহ বিধানসভা গ্রন্থাগারে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার গ্রন্থাগার শুধুমাত্র বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বই পড়ার জায়গা নয়। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন অধিবেশনের কার্যবিবরণী বা ‘প্রসিডিংস’-এর নথিও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
সূত্রের খবর, এই গ্রন্থাগারে দুই লক্ষেরও বেশি বই রয়েছে। সংগ্রহে এমন বহু দুর্লভ বই, নথি ও ঐতিহাসিক দলিল রয়েছে, যেগুলির অনেকগুলি জাতীয় গ্রন্থাগার ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের অন্যত্র সহজে পাওয়া যায় না। বিধানচন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা ভাষণের নথিও এই সংগ্রহের অংশ।
ডিজিটাইজেশনের দাবি
এত বড় সংগ্রহের হিসাব রাখা এবং প্রতিটি বইয়ের অবস্থান নজরে রাখা যথেষ্ট কঠিন। তাই গ্রন্থাগারের কর্মীদের একাংশ সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। কোন বই কার নামে ইস্যু হয়েছে, কবে ফেরত দেওয়ার কথা এবং সেটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে এই তথ্য অনলাইনে বা ডিজিটাল রেকর্ডে থাকলে নজরদারি অনেক সহজ হবে।
একই সঙ্গে দুর্লভ বই ও ঐতিহাসিক নথির ডিজিটাল কপি তৈরির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। তাতে মূল নথি নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং গবেষক ও বিধায়করাও দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারবেন।
এখন মূল নজর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ইস্যু হওয়া ১৮ খণ্ড রবীন্দ্র রচনাবলী এবং ‘সঞ্চয়িতা’র দিকে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধানসভা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ইস্যু থাকা ১৯৪৭ সালের একটি ঐতিহাসিক দলিলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেম্বারগুলিতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান এবং গ্রন্থাগারের রেকর্ডের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখলেই এই বই ও নথিগুলির বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।


