Aaj India Desk, উত্তর দিনাজপুর : বাংলা নববর্ষের দিন জনসভা ও মিছিল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, নির্বাচনী হস্তক্ষেপ এবং তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারের আশঙ্কা সহ একাধিক ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণকে সচেতন থাকার বার্তা দিলেন তিনি।
দমদম বিমানবন্দরে নিজের গাড়ি তল্লাশির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী তার গাড়ির কাছেও পৌঁছেছিল। তিনি জানান, “সব গাড়ি চেক হলে আমারটাও হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িও চেক হওয়া উচিত।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমতা বজায় রাখার প্রশ্ন তোলেন।
তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা
পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, “যদি একজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে মনে রাখবেন, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
নির্বাচনে অর্থের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ
বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা ‘হুন্ডি’ ভরে টাকা নিয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বাহিনী রাজ্যে অর্থ নিয়ে আসছে। পাশাপাশি তিনি নিজেকে স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “আমি বিজেপির মতো চুরি-ডাকাতি করি না, আমি রাজনীতি করি।” একই সাথে নাম না করে রাজ্যপালকেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর বদলে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
মহিলা বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ডিলিমিটেশন বিল আর মহিলা বিল আলাদা বিষয়। মহিলা বিলের মাধ্যমে কি দেশকে ভাগ করার চেষ্টা হচ্ছে? কেন মা-বোনদের অসম্মান করা হচ্ছে?” এই ইস্যুতেও তিনি কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থের ব্যবহার বা বঞ্চনার মতো ইস্যু তুলে তিনি একদিকে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করতে চাইছেন, অন্যদিকে নিজের দলীয় কর্মী ও ভোটারদের সতর্ক ও সক্রিয় রাখার বার্তা দিচ্ছেন। পাশাপাশি, সম্ভাব্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা গ্রেফতারের আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি একটি রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করছেন, যা নির্বাচনী লড়াইয়ে সহানুভূতি এবং জনসমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।


