Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : এবার গ্যাঁড়াকলে জ্ঞানেশ! সিজেপির ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন, দিকে দিকে বিক্ষোভ-আন্দোলনের ডাক, বিরোধীদের লাগাতার নিশানায় এমনিতেই চাপে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। তার মধ্যেই কৃষ্ণনগরের তৃনমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘জ্ঞানেশ চোর কুমার’ খোঁচা যেন সেই চাপের পালে আরও হাওয়া দিল। CEC-র একক সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, আর তারই আবহে মহুয়ার বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের প্রশ্নের মুখে পড়লো নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি।
কী বললেন মহুয়া মৈত্র?
মহুয়া মৈত্র তাঁর X হ্যান্ডলে লেখেন, “জ্ঞানেশ চোর কুমার কোথায়?” এরপরই তাঁর প্রশ্ন, কেনো তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে ক্ষমা চেয়ে হলফনামা চেয়ে সাংবাদিক বৈঠক করছেন না? মহুয়ার আরও অভিযোগ, করদাতাদের টাকাতেই CEC-এর বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তাই তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া উচিত নয়।
আগেই দায়ের করেছিলেন FIR
আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম-6 এর মধ্যে আইন বহির্ভূতভাবে নতুন প্রশ্ন যুক্ত করার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করে CEC-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে CEC জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এমন একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধুর লিখিত আপত্তি ও ভিন্নমতকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এই প্রতিবেদনকে ঘিরেই নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। শুক্রবার আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী শীর্ষ আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন। এই আইনি বিতর্কের মধ্যেই CEC-এর উত্তরপ্রদেশ সফরের কর্মসূচিও স্থগিত হয়েছে। চারদিকে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝেই মহুয়ার এমন দাবি উঠে এলো। এবার জ্ঞানেশ কুমার কি করেন, সেটাই দেখার।


