Aaj India Desk, শিলিগুড়ি: পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির (Pak Spy) সন্দেহে গ্রেফতার (Arrest) হওয়া প্রদীপ্তকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এসটিএফ (STF) সূত্রে দাবি, প্রদীপ্তর নামে নেওয়া দুটি ভারতীয় সিম (Sim Card) পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে একটি সিমের মালিকানা সরাসরি প্রদীপ্তর নামেই রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
STF-এর সন্দেহ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে ভারতীয় সিম পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল প্রদীপ্ত। দিল্লিতে সে ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’-এর ব্যবসা শুরু করেছিল। বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের দিল্লিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আড়ালেই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
প্রদীপ্তর বাড়ি শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ায়। সেখানে তাঁর বাবা-মা থাকেন। বিয়ে হলেও স্ত্রী আলাদা থাকেন। পরিবারের সদস্যরা অবশ্য প্রদীপ্তর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, এই ধরনের কোনও কাজের সঙ্গে প্রদীপ্ত যুক্ত থাকতে পারে, তা তাঁরা বিশ্বাস করেন না।
তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও গভীর। তাঁদের অনুমান, প্রদীপ্তর নামে নেওয়া ভারতীয় সিম পাকিস্তান থেকেই ভারত-বিরোধী কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। সেই সিম কীভাবে রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছল, কে বা কারা সেটি ব্যবহার করত এবং প্রদীপ্তর সঙ্গে তাঁদের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল—সবকিছুই খতিয়ে দেখছে STF।
গতকাল থেকেই প্রদীপ্তকে সঙ্গে নিয়ে শিলিগুড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন তদন্তকারীরা। তাঁর পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ, গতিবিধি এবং বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত CID ডিএসপি গৌতম ঘোষালের দাবি, ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় শিক্ষিত যুবকদের টার্গেট করে ধীরে ধীরে মগজধোলাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকেই নিজেদের কাজের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তার কতটা ক্ষতি হতে পারে, তা বুঝতে পারছেন না বলেই তাঁর মত।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য স্লিপার সেলের গতিবিধির উপর নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রদীপ্তর ঘটনা সেই নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকেই আরও সামনে এনে দিয়েছে। এখন STF-এর মূল লক্ষ্য, এই যোগাযোগের জাল কতদূর ছড়িয়েছে এবং এর পিছনে আরও কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করা।


