কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে মমতা-সরকারের ১৫ বছরের তোলাবাজি (Extortion), কাটমানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরায় পেয়েই বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সেই জনমতের জোরেই ৪ মে সরকার গঠন করে গেরুয়া শিবির, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। আর সেই অভিযোগ দলের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।
দলীয় সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রভাব খাটানো এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছতে থাকে। এরপরই বারবার প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তোলাবাজির (Extortion) ক্ষেত্রে দলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে এবং অভিযুক্তদের শুধরে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ও দেওয়া হয়।
তবে সেই সতর্কবার্তা যে সবার কানে পৌঁছয়নি, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েই এবার বড় পদক্ষেপ করল বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজি (Extortion)-সহ একাধিক অভিযোগে ২২ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বার্তা স্পষ্ট, কিন্তু প্রশ্নও কম নয়
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর কোনও দল যদি নিজেদের কর্মীদের বিরুদ্ধেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, তা জনতার কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। বিশেষ করে যে ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটে সাফল্য এসেছে, সেই ইস্যুতেই কড়া অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন, এই অভিযান কি এককালীন, নাকি দীর্ঘমেয়াদি?
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধু কয়েক জনকে সাসপেন্ড করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যদি অভিযোগ ওঠার পর প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত তদন্ত, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়, তবেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। অন্যথায় বিরোধীরা এটিকে শুধুই রাজনৈতিক বার্তা বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল বলে দাবি করতে পারে।
সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন, ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছিল, তোলাবাজি (Extortion) ও কাটমানির সংস্কৃতি বাংলার রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। এখন সেই একই অভিযোগ যদি শাসকদলের একাংশের বিরুদ্ধেই ওঠে, তাহলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
তাই ২২ জনকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে কড়া বার্তা। কিন্তু এই পদক্ষেপ কতদিন ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, অভিযোগের তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হয় এবং ভবিষ্যতেও একই মানদণ্ডে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বিজেপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর।


