26.4 C
Kolkata
Thursday, August 6, 2026
spot_img

দেড় কোটির ‘ডামি’ চেক! মহামেডানের সভাপতির কুর্সি হারালেন হুমায়ুন!

Aaj India Desk, কলকাতা : দেড় কোটি টাকার চেক পরপর তিনবার বাউন্স হওয়ার জেরে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ক্লাবের আর্থিক সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ক্লাবকে দেড় কোটি টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি তিনবারই অনাদায়ী ফেরে। এরপর আইনি নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত তাঁকে সভাপতি পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিশ্রুতি থেকে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালন সমিতিতেও বড় পরিবর্তন আসে। সেই নতুন কমিটির সভাপতি করা হয় নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir)। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রায় ১৩ কোটি টাকার ঋণের বোঝা থেকে ক্লাবকে মুক্ত করতে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগ নেবেন।

দেড় কোটির চেক, তিনবারই বাউন্স

ক্লাব সূত্রের দাবি, আর্থিক সমস্যা মেটাতে হুমায়ুন কবীর দেড় কোটি টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেই চেক একবার বা দু’বার নয়, টানা তিনবার বাউন্স করে। চেক বাউন্সের ঘটনা সামনে আসার পরও তিনি ক্লাব কর্তাদের দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন বলে সূত্রের দাবি। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে ক্লাবের অন্দরে।

আইনি নোটিসের পর কড়া পদক্ষেপ

গত ৫ আগস্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) আইনি নোটিস পাঠায়। সেখানে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি দুই ধরনের মামলাই দায়ের করা হবে। এরই মধ্যে ক্লাবের শীর্ষ মহল সভাপতি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

কেন সরানো হল সভাপতি পদ থেকে?

ক্লাবের একাংশের মতে, আর্থিক সংকট কাটানোর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই হুমায়ুন কবীরকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চেক বাউন্সের ঘটনা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সভাপতি পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ক্লাব সূত্রে জানা গেছে।

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পাঠানো আইনি নোটিসের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের পথে হাঁটতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন