Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরকে (Councillor) গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনায় উল্লাসিত কাউন্সিলরের কাজে অতিষ্ঠ জনতা।
ধৃতের নাম শান্তনু মজুমদার ওরফে ‘মেজো’। তিনি বরানগর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (Councillor)। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা তোলার পাশাপাশি ভাড়াটে সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর নাম করে এক মহিলার কাছ থেকেও টাকা আদায় করেছিলেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বরানগর থানার পুলিশ। পরে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহিলার অভিযোগে শুরু তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রীতা রায় নামে এক মহিলা বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয় তাঁর কাছ থেকে। অভিযোগ, ভাড়াটে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি জোর করে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটেও বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারদের কাছ থেকেও তোলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল শান্তনু মজুমদারের বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তার আর এক কাউন্সিলর
এর আগেও নির্বাচনী আবহে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক তৃণমূল কাউন্সিলর (Councillor) গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রার্থী অধীর চৌধুরী। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল বহরমপুরে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। সেই সময় তাঁর মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। পরে কংগ্রেস ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
রাজনৈতিক মহলে শুরু আলোচনা
পরপর জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেও স্থানীয় স্তরে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।


