Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবার তাঁর নিজের পাড়ায়! চেতলায় তাঁর বাসভবনের কাছেই দেখা গেল ‘গদ্দার’ লেখা পোস্টার ও ব্যানার। ৮২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের নামে লাগানো ওই পোস্টারে মেয়ে ও জামাইয়ের ক্ষেত্রে কোন নীতি প্রযোজ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্য এবং প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই পোস্টার ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মেয়ে-জামাইকে ঘিরে কী লেখা পোস্টারে?
পোস্টারে লেখা রয়েছে, “নিজের বেলায় আঁটি গুটি, পরের বেলায় দাঁত কপাটি। নিজের জামাই ও নিজের মেয়ের সময় কোন ফর্মুলা—রক্ত না ভক্ত?” পোস্টারের বক্তব্যে ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই পোস্টার কারা লাগিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ৮২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের নাম থাকলেও সংগঠনের তরফে এর সত্যতা বা দায় স্বীকারের কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
কোন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক?
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, দলের নেতৃত্ব নাকি ‘ভক্তের চেয়ে রক্তের সম্পর্ককে’ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই মন্তব্যের পরেই প্রার্থী নির্বাচন এবং পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্টার দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। যদিও পোস্টার লাগানোর সঙ্গে ওই মন্তব্যের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তৃণমূলের অন্দরে বদলেছে সমীকরণ
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। কলকাতার মেয়র হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া এই গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরেও চর্চা চলছে।
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে ফিরহাদ হাকিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন। বর্তমান বিধায়ক হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন। তবে এই বিষয়ে ফিরহাদ হাকিমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই নিজের এলাকায় পোস্টার পড়ার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


