Aaj India Desk,কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাতেই যেন একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পুলিশি অভিযান।
আর সেই অভিযানে উঠে আসছে এমন সব ছবি যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে।কোথাও নেতার বাড়ি যেন পাঁচতারা রিসোর্ট! বিশাল প্রাসাদোপম অট্টালিকা, ঝাঁ-চকচকে মার্বেল, সুইমিং পুল, দামি বিদেশি গাড়ি, অত্যাধুনিক ইন্টিরিয়র দেখে আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে রাজনীতি করে এত সম্পত্তি কীভাবে? কোথাও আবার উদ্ধার হচ্ছে বিদেশি প্রজাতির পাখি, বিলাসবহুল আসবাব, কোটি টাকার অলঙ্কার এবং নগদ অর্থ।
রাজনীতি করে এত সম্পত্তি? এখন বাংলার চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্র ঘুরছে এই একটাই প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বারবার সামনে আসছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষা দুর্নীতি, কয়লা কাণ্ড, গরু পাচার, বালি সিন্ডিকেট, সারদা, নারদা তালিকাটা এতটাই দীর্ঘ যে সাধারণ মানুষের বলছেন, “এ যেন দুর্নীতির এনসাইক্লোপিডিয়া!”
ঘাসফুল থেকে জেলগেট দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত তৃণমূলের পরিচিত মুখেরা
কলকাতা ও বরাহনগর (Kolkata & Baranagar)
সুদীপ পোল্লে : কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ও ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান।
অভিযোগ: ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া ও দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি।
শঙ্কর রাউত : বরাহনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল শ্রমিক নেতা।
অভিযোগ: তোলাবাজি, বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর ও শ্লীলতাহানি।
অর্পণ দত্ত : শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
অভিযোগ: বরাহনগর কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃত।
দেবজ্যোতি বণিক (বনি) : তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
অভিযোগ: তোলাবাজি ও হামলার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে।
সুবল দে : বরাহনগর কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ।
অভিযোগ: শঙ্কর রাউতের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত।
দেবাশিস দাস : তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
অভিযোগ: বরাহনগর ঘটনার মামলায় ধৃত।
সুব্রত সরকার : বরাহনগর কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ।
অভিযোগ: হামলা ও তোলাবাজির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ।
বিধাননগর ও দমদম (Bidhannagar & Dum Dum)
সুজিত বসু : লেকটাউন-বিধাননগর এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী।
অভিযোগ: পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে ধৃত।
সম্রাট বড়ুয়া : বিধাননগর পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: তোলাবাজি ও ব্যবসায়ীকে হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার।
সুশোভন মণ্ডল : বিধাননগর পুরনিগমের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে নাম জড়িয়েছে।
সমরেশ চক্রবর্তী : বিধাননগর পুরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কে।
রঞ্জন পোদ্দার : বিধাননগর পুরনিগমের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: স্থানীয় স্তরে তোলাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ।
পার্থ ভার্মা (ওরফে টিঙ্কু) : দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত।
হাওড়া (Howrah)
শমিম আহমেদ (ওরফে বড়ে) : মধ্য হাওড়ার শিবপুর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: বোমাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় অভিযুক্ত। পলাতক থাকার পর মুম্বই থেকে গ্রেফতার। তাঁর ৩ তলা বাড়ি থেকে পুলিশ এড়ানোর জন্য তৈরি গুপ্ত সুড়ঙ্গ সিঁড়িও উদ্ধার হয়।
জাভেদ আখতার : শমিম আহমেদ ওরফে বড়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
অভিযোগ: হিংসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে মুম্বই থেকে ধৃত।
ক্রান্তি : শমিম আহমেদের সহযোগী।
অভিযোগ: ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় নাম জড়ানোয় মুম্বই থেকে গ্রেফতার।
নদীয়া (Nadia)
রমজান আলি মণ্ডল : আড়ংঘাটার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: এলাকায় সমান্তরাল সিন্ডিকেট প্রশাসন চালানো, জমি দখল এবং জোর করে সামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে ধৃত।
প্রদীপ সাঁতরা : রমজান আলি মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডানহাত হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলায় নাম জড়িয়েছে।
কোচবিহার (Cooch Behar)
ভবরঞ্জন বর্মণ : দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়তের তৃণমূল উপপ্রধান ও উদয়ন গুহের ঘনিষ্ঠ নেতা।
অভিযোগ: ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীকে মারধর এবং ৫০ হাজার টাকা কাটমানি চাওয়ার অভিযোগে ধৃত।
বর্ধমান ও আসানসোল (Purba & Paschim Bardhaman)
কামরুদ্দিন : পাণ্ডবেশ্বর দক্ষিণ শ্যামলা কোলিয়ারির তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন (INTTUC)-এর সম্পাদক।
অভিযোগ: কয়লা খনি এলাকা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার।
নারুগোপাল ভকত : বর্ধমান পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলা ও হিংসার মামলায় ধৃত।
আহমেদ হোসেন শেখ : মন্তেশ্বরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: পুরনো ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার।
রামজীবন লোহার :অণ্ডালের বহুলা পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান।
অভিযোগ: কয়লা সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত।
মুন্না সাউ : আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট চালক।
অভিযোগ: কয়লা মাফিয়া ও বেআইনি তোলাবাজির সঙ্গে যোগের অভিযোগ।
শতদীপ ঘটক : আসানসোল এলাকার যুব তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় গ্রেফতার।
হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর (Hooghly & Paschim Medinipur)
সূর্য দে : ডানকুনি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: রাজনৈতিক হিংসার মামলায় গ্রেফতার।
রাজু পাড়ুই : বৈদ্যবাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: রাজনৈতিক হিংসা ও হুমকির মামলায় নাম জড়িয়েছে।
রাজদীপ দে : কামারপুকুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান।
অভিযোগ: আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত।
সম্রাট মালিক : হুগলির গুড়াপ এলাকার তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: পুরনো রাজনৈতিক অশান্তির মামলায় গ্রেফতার।
রাজু ধাড়া : গুড়াপ এলাকার তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে।
রবিন বাগ : গুড়াপের তৃণমূল কর্মী।
অভিযোগ: অশান্তি ও হামলার মামলায় ধৃত।
কুমরেশ ভূঁইয়া (Kumaresh Bhunia) : পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: জোরপূর্বক জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (North & South 24 Parganas)
নারায়ণচন্দ্র কর : স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নেতা।
অভিযোগ: দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে।
সুকুমার রায় : বনগাঁ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর।
অভিযোগ: অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার।
আব্দুল কাদের হক (Abdul Kader Haque) : সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় ধৃত।
সাইদুল খান : ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সহ-সভাপতি।
অভিযোগ: রাজনৈতিক হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগে বিতর্কে।
আর্ঘ্য মণ্ডল (Arghya Mondal) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল কর্মী।
অভিযোগ: বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে গ্রেফতার।
মালদহ ও বাঁকুড়া (Malda & Bankura)
স্মৃতিকণা মণ্ডল : মালদহের রতুয়া ব্লকের বিল্লাইমারি পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান।
অভিযোগ: ১৩ কোটি টাকার সমবায় ব্যাঙ্ক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার।
অনিল মণ্ডল : স্মৃতিকণা মণ্ডলের স্বামী ও আঞ্চলিক তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ: আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে।
সদ্দাম শেখ : মালদহের তৃণমূল শ্রমিক নেতা।
অভিযোগ: তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত।
সুরজ বক্স :বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি।
অভিযোগ: ডাকাতির ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার।


