Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক (TMC Symbol Row) নিয়ে এখনও ঝুলে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালিঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্য শোনার পরও কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি কমিশন। তবে এই পরিস্থিতিতে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাতে জোড়াফুল প্রতীক থাকার সম্ভাবনাই আপাতত বেশি বলে দাবি কালিঘাট শিবিরের। অন্যদিকে সেই দাবি উড়িয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
কালিঘাট শিবিরের বক্তব্য, কমিশন যদি ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে জোড়াফুল প্রতীক (TMC Symbol Row) নিয়ে কোনও নির্দেশ না দেয়, তাহলে ‘স্টেটাস কো’ বজায় থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে শিবিরের মাধ্যমে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল, উপনির্বাচনেও সেই প্রতীক ব্যবহারের অধিকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের থাকবে।
শনিবারের শুনানির পরও অবশ্য থেমে থাকেনি কালিঘাট শিবির। দলের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং ব্রায়ান একটি নতুন চিঠি কমিশনে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, ঋতব্রত শিবির প্রতীক নিয়ে দাবির সমর্থনে কী কী নথি জমা দিয়েছে, তা মমতা শিবিরকে এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কালিঘাট শিবিরের আরও দাবি, দলের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তৃণমূলের চেয়ারপার্সন নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা। সেই হিসাব অনুযায়ী, সাংগঠনিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখনও দলের চেয়ারপার্সন। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে ঋতব্রত শিবির যে অভিযোগ তুলেছে, তারও যথেষ্ট ভিত্তি নেই। ডেরেক-ব্রায়ানের চিঠির পরই মমতা শিবিরকে ফের কমিশনে ডাকা হয়েছে বলে দাবি কালিঘাটের।
অন্যদিকে, কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে কালিঘাট শিবিরের ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বরের শুনানি নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। ঋতব্রতের কথায়, “কিছু মানুষ অকারণ জল্পনা তৈরি করছেন। কমিশন আমাদেরও একই চিঠি দিয়েছে। কোথাও বলা হয়নি যে বৈঠক নিশ্চিত। চিঠির নীচে লেখা আছে, প্রয়োজন হলে শুনানি হবে। কেন ধরে নেওয়া হচ্ছে যে শুনানির প্রয়োজন হবেই? হয়তো শুনানির কোনও কারণই থাকবে না। আমরা নিশ্চিতভাবেই প্রতীক পাব।”
ফলে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় তার আগের কয়েকটি দিন দুই শিবিরের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই মুহূর্তে কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় কালিঘাট শিবির নিজেদের অবস্থানকে সুবিধাজনক বলে মনে করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নির্বাচন কমিশনের হাতে। ঋতব্রত শিবিরও প্রতীক (TMC Symbol Row) পাওয়ার বিষয়ে নিজেদের দাবিতে অনড়। ফলে উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্বের আগেই জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কোনও নির্দেশ আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


