Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা : ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভিযোগের পারদ। ঠিক সেই সময়েই সামনে এল একটি ভাইরাল ভিডিও, যেখানে ভোটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায় এক প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে। সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক, যার জেরে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হলেন সল্টলেকের প্রাক্তন কাউন্সিলর নির্মল দত্ত (Nirmal Dutta)।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও (Aaj India থেকে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি) ভাইরাল হয়, যেখানে একটি সভায় নির্মল দত্তকে (Nirmal Dutta) ভোটারদের লক্ষ্য করে বলতে শোনা যায় যে কোন এলাকায় কে ভোট দেন তা তাঁর পক্ষে জানা সম্ভব। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড লিঙ্ক করা আছে জানিয়ে তিনি এই ভোটারদের ‘হিসাব’ রাখবেন বলেও প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। এই মন্তব্যের ভিত্তিতেই এবারের বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান।
১০ দিনের জেল হেফাজত
অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ নির্মল দত্তের (Normal Dutta) বিরুদ্ধে হুমকি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেআইনি হস্তক্ষেপসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে পেশ করা হলে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করেনি। বিচারক নির্মল দত্তকে ১০ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আপাতত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে দমদম সংশোধনাগারে থাকতে হবে। তবে আদালত চত্বরে নির্মল দত্ত দাবি করেন, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
দাদাগিরির অভিযোগ স্থানীয়দের
স্থানীয় একাংশের অভিযোগ, মেট্রো প্রকল্পের সময় উচ্ছেদ পর্বে সক্রিয় হয়ে ওঠেন নির্মল দত্ত। পরে এলাকায় প্রভাব বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী আলো দত্ত ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এই ওয়ার্ডে দত্তাবাদ ও পূর্বাচলের একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত।
বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সরাসরি বলেন, “ভোট গোপনীয় হওয়া উচিত। এই ধরনের মন্তব্য গণতন্ত্রের ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।” অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে এই গ্রেপ্তারি করা হয়েছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “এটি প্রমাণ হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। এর আগে শুভেন্দু বা অন্য বিজেপি নেতা যখন তৃনমূলের বিরুদ্ধে বলেছিল তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেনো ?”
আগামী ২৯ এপ্রিল বিধাননগরে ভোটগ্রহণ নির্ধারিত। তার আগে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। নির্বাচনের মুখে এমন পদক্ষেপকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। সাধারণত তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া ও তার উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, হেফাজতে না নিলেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনে অভিযুক্তকে আবার পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ থাকে।সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, আইনি কৌশল এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার নিচ্ছে। এখন নজর, ভোটের আগে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।


