34 C
Kolkata
Friday, April 17, 2026
spot_img

‘খুন করে পুঁতে’ ফেলার হুমকি ! হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ তৃণমূলের !

Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও হুমকিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের অভিযোগ, একটি প্রেস কনফারেন্সের ভিডিওতে (ভিডিওটির সত্যতা Aaj India যাচাই করেনি) হুমায়ূন কবীর (Humayun Kabir) বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে অবমাননাকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। দলের দাবি, ভিডিওতে ‘খুন করে পুঁতে ফেলার’ মতো হুমকিও শোনা গিয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিষেক ও অন্যান্য নেতাদের নিশানা

সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযোগে বলা হয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সহকারী সুমিত রায় এবং বেলডাঙা ব্লক-২-এর মইনুল হক রানাকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। শাসকদলের অভিযোগ, হুমায়ূন কবীরের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘন করেছে। ব্যক্তিগত জীবনে কুৎসা রটানো, ভিত্তিহীন অভিযোগ করা এবং ভোটারদের ভয় দেখানো সবই নির্বাচনী আইন বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে দল।

‘শো-কজ’ নোটিসের দাবি 

এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, হুমায়ূন কবীরকে অবিলম্বে ‘শো-কজ’ নোটিস পাঠাতে হবে। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিও জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে শাসকদল।

আগেও ‘ডিল’ ভিডিও নিয়ে বিতর্কে হুমায়ুন 

উল্লেখ্য, এর আগেও সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে তাঁকে মুসলিম ভোট টানতে ও তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির সাথে ‘ডিল’ করতে শোনা যায়। যদিও ভিডিওটি AI নির্মিত বলে তা দমন করার চেষ্টা করেন তিনি। সেই ভিডিও নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চূড়ান্ত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এরপরেই ভোটের কিছুদিন বাকি থাকতেই আবার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতির নজর কার্যত এক জায়গায় গিয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ভোটের মুখে এমন সংবেদনশীল অভিযোগ সামনে আসায় কমিশনের ভূমিকা কতটা দ্রুত ও দৃঢ় হয়, সেটাই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে কমিশনের যে কোনও সিদ্ধান্ত সরাসরি নির্বাচনী পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভোটের ঠিক আগে এই বিতর্ক  তাই আগামী পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই ইস্যু কতটা বড় আকার নেয় এবং নির্বাচনী আবহে তার প্রভাব কতটা গভীর হয়।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন