Aaj India Desk, কলকাতা: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পর এবার আয়কর দফতরের নজরেও তৃণমূল (TMC)প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমার (Debashish Kumar)। শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়ি এবং বিভিন্ন অফিসে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। মনোহরপুকুর রোডের বাসভবনে সকালেই পৌঁছে যান আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল ইডি (ED)। একই দিনে কালীঘাটের তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে বিজেপি (BJP) কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে কাজে লাগাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, দেবাশিস কুমারের বাড়ির বিপরীতে কিছুটা এগিয়ে ডান দিকের গলিতে থাকা তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়েও পৌঁছে যান আয়কর আধিকারিকরা। সেখানে তালা খুলে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা। বিভিন্ন নথি ও ফাইল সংগ্রহ করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা অফিসের বাইরে বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও।
দলীয় কর্মীদের বক্তব্য, শুধু রাসবিহারী কেন্দ্র নয়, ওই কার্যালয় থেকেই বালিগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটসংক্রান্ত কাজও পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই আয়কর আধিকারিকরা অফিসে ঢুকে পড়েছেন। কর্মীদের আশঙ্কা, বুথ লেভেল এজেন্টদের নাম, ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর-সহ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করে তা বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, অফিসে থাকা ল্যাপটপও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। খবর, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দ্রুত সেখানে পৌঁছতে পারেন।অন্যদিকে, কালীঘাটে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও এদিন তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁর বাড়ির সামনে মহিলা সমর্থকদের জমায়েতও দেখা গিয়েছে।
ভোটের আগে বিরোধীদের চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটের আগে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর জবাবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার দাবি, “চুরি করলে ব্যবস্থা নিতেই হবে। অপরাধের তদন্তের জন্য আলাদা সময় লাগে না। আরও বহু প্রার্থী রয়েছেন, সবার বিরুদ্ধে তো তদন্ত চলছে না।”
সূত্রের খবর, কিছুদিন আগে দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ ছিল, কলকাতা পুরসভার সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করে নির্মাণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, দেবাশিস কুমারের এলাকাতেও এমন একাধিক নির্মাণ হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত সেই অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পরে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য-সহ একাধিক নথি নিয়ে তাঁকে তলব করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে তিনি বিধায়ক হলেও, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন দেবাশিস কুমার।


