কলকাতা: ধীরে ধীরে একা হয়ে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর যদিও ফেসবুক লাইভে এসে বললেন, “আমার কিছু যায় আসে না! আমার নেতা চাই না, কর্মী চাই”! এরপরই তৃণমূল সংগঠনে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেন তিনি। সংগঠনের সংকটকালে হাল ধরতে নিজেই মাঠে নামলেন মমতা। বললেন, “এখন তো আর অন্য কোনও কাজ নেই। আমি দলের কাজটাই এবার মনোযোগ দিয়ে করব।” ঘোষণা করেন, আপাতত তিনিই রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
পাশাপাশি সংগঠন পরিচালনায় গতি আনতে দুই নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষের নামও ঘোষণা করেন তিনি (Mamata Banerjee)। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) পদত্যাগের পর তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরে নেতৃত্বের প্রশ্নে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের দায়িত্ব তিনি নিজেই গ্রহণ করছেন। তাঁর কথায়, দলের ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
ফেসবুক লাইভে মমতা (Mamata Banerjee) আরও ঘোষণা করেন, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করা হচ্ছে। দলের সাংগঠনিক কাজকে আরও গতিশীল এবং কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূলের অন্দরে যে টানাপোড়েন চলছে এবং একের পর এক নেতার পদত্যাগ ও অবস্থান পরিবর্তনের জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই মমতার (Mamata Banerjee) এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর নেতৃত্বে কোনও শূন্যতা তৈরি হতে না দিতেই তিনি নিজেই সামনে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়াকেও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দুই নেতাই দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁদের হাতে সংগঠনের দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ তুলে দিয়ে মমতা একদিকে যেমন নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় করতে চাইছেন, অন্যদিকে সংগঠনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণও আরও সুদৃঢ় করলেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।


