মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে এক হাজার লোক নিয়ে যাবেন বলেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চিফ হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। শুধু তাই নয়, গ্রেফতার করলে ওই হাজার লোকও তাঁর সাথে যাবে বলেছিলেন তিনি। শনিবার নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে ঢোকেন নওদার বিধায়ক। প্রায় ৪ ঘন্টা জেরা শেষে বেরিয়ে করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট।
যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ “হুমায়ুন কবির জিন্দাবাদ”-এর স্লোগান দিচ্ছে। হুমায়ুনের (Humayun Kabir) দাবী, থানার বাইরে তাঁর জন্য হাজারও মানুষ জমায়েত করেছিল। যা দেখে তিনি ‘অভিভূত’! সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
হুমায়ূন কবির লেখেন, থানা থেকে বেরিয়ে যে দৃশ্য তিনি দেখেছেন, তা তাঁকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, সমর্থকদের ভিড়, উচ্ছ্বাস এবং ভালোবাসাই তাঁর আগামী দিনের সংগ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, মানুষের এই অকৃত্রিম সমর্থন তাঁকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
Video Link: https://www.facebook.com/humayunkabir1963
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত চলছে। তবে যত বাধাই আসুক না কেন, তিনি মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেই জানিয়েছেন। তাঁর (Humayun Kabir) কথায়, “আমার বিরুদ্ধে যতই গভীর চক্রান্ত হোক, যতই বাধা আসুক, আপনাদের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠব। মানুষের উন্নয়ন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমার এই লড়াই কোনওদিন থামবে না।”
প্রসঙ্গত, মমতা জমানা থেকেই ধর্মীয় উস্কানিমূলক, অপমান জনক মন্তব্য করে আসছেন হুমায়ুন কবির। তবে সম্প্রতি রেজিনগরের কাশীপুরের জনসভায় বেলাগাম মন্তব্য করে ফ্যাসাদে পড়েন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চিফ হুমায়ুন (Humayun Kabir)। তাঁর বিরুদ্ধে শক্তিপুর এবং রেজিনগর থানায় জোড়া মামলা দায়ের হয়। বিধানসভা অধিবেশনে আল্টিমেটাম দেন মুখ্যমন্ত্রীও।
তবে শুক্রবার হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও যাননি হুমায়ুন। শুধু তাই নয়, উল্টে প্রকাশ্যে শক্তিপুর থানার ওসিকে ‘বাপ-মা’ তুলে অশ্রাব্য কুকথা বলেন তিনি। যদিও শনিবার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১১ টার তিন মিনিট আগে রেজিনগর থানায় হাজিরা দেন তিনি। আকাশে ড্রোন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিপুল সংখ্যক পুলিশের নজরদারিতে মোড়া ছিল রেজিনিগর থানা চত্বর। প্রায় ৪ ঘন্টা হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু থানা থেকে বেরোতেই পুরনো ছন্দে শক্তি প্রদর্শন করেন নওদার বিধায়ক।


