Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫ টি বুথে ফের ২ মে, শনিবার পুনর্নির্বাচনের (Re-poll) ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আজ সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচন চলবে। সকাল থেকে একাধিক বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও এই পুনর্নির্বাচনের ফলে দৈনিক আয়ে ও রুজিতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ জানান স্থানীয় ভোটাররা।
ফের ইভিএমে সমস্যা
শনিবার সকাল ৭টা থেকে মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) শুরু হয়। তবে কিছু বুথে ইভিএমে ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মগরাহাট পশ্চিমের উত্তর ইয়ারপুর এফ.পি. স্কুলে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভোটারদের একাংশ জানান, মেশিনে সমস্যা হওয়ায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে চালু করা যায়নি।
পুনর্নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ
এর জেরে সমস্যার সম্মুখীন সাধারণ মানুষ। মগরাহাটের এক ভোটার, নিশা মণ্ডল বলেন, “আমি প্রতিদিন কাজের ভিত্তিতে আয় করি। আগের ভোটের দিনও ছুটি নিতে হয়েছে, আজও ইভিএম খারাপ হওয়ার কারণে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাই আজকেও ছুটি নিতে হল। আমার দু’দিনের মজুরি কাটা গেল।” তবে এই পরিস্থিতি তাঁর একার নয়। স্থানীয়দের একাংশ দৈনিক আয়ের সাথে যুক্ত। মগরাহাটেরই অপর এক ভোটার, সঞ্জয় ধারার বক্তব্য অনুযায়ী, একদিন কাজ বন্ধ করলে তাঁর একবেলা উপোস করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে পুনর্নির্বাচন সাধারণ মানুষের জীবিকা ও জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মত স্থানীয়দের একাংশের।
তবে নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং জানান, “যেভাবে ইভিএমে বিজেপির বোতামের উপর সেলোটেপ লাগানো হয়েছিল, তাতে যারা ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের আবার ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।”
পুনর্নির্বাচনে (Re-poll) ভোট দিয়ে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এগিয়ে এলেও তার বিনিময়ে সাধারণ মানুষদের পড়তে হচ্ছে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে একদিকে নাগরিক দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে জীবিকার টানাপোড়েন, এই দ্বৈত চাপে পড়ে অনেকের কাছেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা পুনর্নির্বাচনের মতো প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের জীবিকার সুরক্ষার ও সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।


