Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : ইডির ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের কারণে সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত থাকতে পারেননি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে চলা টানাপোড়েনের আবহে সেই সাক্ষাৎ ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যাওয়া সেই বৈঠকের নতুন দিন ঘোষণা করেছে স্পিকারের দপ্তর।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ১৯ জুন তারিখ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ওম বিড়লা সরাসরি কথা বলবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সাথে।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বিদ্রোহী সাংসদরা স্পিকারের কাছে যাওয়ার আগেই তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি আবেদন করেন, বিদ্রোহী সাংসদরা যদি নিজেদের আলাদা ব্লক বা ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করেন, তবে সেই দাবিকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। অভিষেকের যুক্তি ছিল, এমন স্বীকৃতি সংবিধান ও সংসদীয় বিধি বিরোধী।
সেই চিঠির প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে ই-মেল পাঠানো হয়। কিন্তু সেই সময় অভিষেক কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে বিভিন্ন আর্থিক ও নথিগত বিষয় নিয়ে তাঁকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করা হয়। ফলে তিনি স্পিকারের দপ্তর থেকে পাঠানো ই-মেল দেখতে ও তার উত্তর দিতে পারেননি।
স্পিকারের সচিবালয় থেকে পরে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিষেক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। পরিস্থিতির কথা জানিয়ে কীর্তি আজাদ প্রথমে ই-মেলের মাধ্যমে স্পিকারের দফতরকে অবহিত করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিষেকের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। এরপরেই তাঁর জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।
বিদ্রোহী সাংসদদের সাংসদ পদ ও সংসদীয় অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ২০ জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে। তার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও শুনতে চান স্পিকার ওম বিড়লা। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ১৯ জুনের বৈঠক এখন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়, তৃণমূলের সংসদীয় ভবিষ্যৎ ও বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


