Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: এক বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই ফের দুর্যোগের আশঙ্কা নেপালে। হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flash Flood) ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। এর মধ্যেই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ভোটে কোশী নদীকে (Bhote Koshi River) ঘিরে।
রবিবার নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) ভোটে কোশী নদী নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। নদীতে জলপ্রবাহ দ্রুত বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে নদীর গর্জনের শব্দও। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় নদীর কাছাকাছি থাকা মানুষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা এক্স (X)-এ দেওয়া বার্তায় জানিয়েছে, রসুয়া জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নদীর পরিস্থিতি নিয়ে খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে ভোটে কোশীর জলপ্রবাহ এবং স্রোতের শব্দ দুটোই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রসুয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলার নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নদীর আশপাশের বিপজ্জনক এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, উদ্ধারকাজে যুক্ত দলগুলিকেও সতর্ক করেছে প্রশাসন। রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং আশপাশের এলাকায় কাজ করা ভারতীয় ও নেপালি উদ্ধারকারী দল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নদী থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও বন্যায় নেপালের পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১ হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে অন্তত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আরও ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিপর্যয়ের চতুর্থ দিন শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৩ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিকও রয়েছেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সাহায্যের জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রবিবার জানান, ১১ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে ভারতের চতুর্থ বিমান কাঠমাণ্ডুতে পৌঁছেছে। C-130J হারকিউলিস বিমানে করে পাঠানো এই সামগ্রী নেপাল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পাঠানো সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজের জন্য সেনার বিশেষ টানেল টেকনিক্যাল টিম এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম। এছাড়াও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞ ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, তারপোলিন, প্লাস্টিক শিট এবং হাইজিন কিটের মতো প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীও রয়েছে।
তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ জলপ্রলয়ে নেপালের বহু এলাকা কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সেই বিপর্যয়ের ধাক্কা এখনও সামলাতে পারেনি দেশটি। তার মধ্যেই ভোটে কোশী নদীতে দ্রুত জল বাড়ার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে ফের কোনও বড় বিপর্যয় নেমে আসে কি না, সেই আশঙ্কায় আতঙ্কিত নেপালের নদী তীরবর্তী মানুষ।


