30 C
Kolkata
Sunday, August 30, 2026
spot_img

হোর্ডিং-কাণ্ডে অভিষেককে থানায় তলব, ১ সেপ্টেম্বর হাজিরার নোটিস! বাড়িতে পৌঁছল পুলিশ

Aaj India Desk, কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে (Camac Street) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসের হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবার তা আরও জটিল আকার নিল। সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া, মারধর এবং শ্লীলতাহানির (Molestation) অভিযোগে মোট তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তার মধ্যে দুটি অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।

এই ঘটনায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শেকসপিয়ার সরণি থানায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। শনিবার রাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হাজির হয় শেকসপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। তাদের সঙ্গে ছিল কালীঘাট থানার পুলিশও। সেখানেই অভিষেকের নামে থানায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়। সেই নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

ঘটনার সূত্রপাত দু’দিন আগে। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বাইরে পুরসভার হোর্ডিং ও ব্যানার সরাতে যায় পুরকর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, কোনও আগাম লিখিত নোটিস বা বৈধ নির্দেশের কপি না দেখিয়েই এই কাজ শুরু করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বচসা এবং পরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও।

শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতে পুরসভার কর্মীরা গ্যাস কাটার-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অফিসের ছাদে ওঠেন। সেখান থেকে বেআইনি বলে চিহ্নিত হোর্ডিং ও ব্যানার খুলে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, অফিস চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদনহীন একাধিক ব্যানার ও বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং রাখা হয়েছিল।

পুরসভার এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর অফিসের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজনৈতিকভাবে দলকে চাপে ফেলতেই প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক কার্যালয় নিয়ে আরও একটি পুরনো বিতর্ক সামনে এসেছে। ওই বাড়ির একটি অংশ চুক্তির শর্ত ভেঙে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বাড়ির মালিকপক্ষ আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে।

জানা যায়, ২০২০ সালে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের বাড়ির মালিকপক্ষের সঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি চুক্তি হয়েছিল। মালিকপক্ষের আইনজীবীর দাবি, চুক্তিতে বাড়ির নির্দিষ্ট একটি অংশ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সীমার বাইরে গিয়ে আরও জায়গা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। ওই চুক্তিতে তৎকালীন তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী সই করেছিলেন বলে জানা যায়। মালিকপক্ষের আরও অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি না নিয়েই বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় বিলবোর্ড ও হোর্ডিং বসানো হয়। একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়ির মালিকপক্ষ। ফলে হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কের পাশাপাশি অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে পুরনো চুক্তি ও দখল সংক্রান্ত অভিযোগও ফের সামনে চলে এসেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন