Aaj India Desk, কাঠমান্ডু: হড়পা বান (Nepal Flash Flood) ও হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে নেপাল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চিনের (China) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নেপালের প্রাক্তন বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগেঁ (Madhav Prasad Chaulagain)। তাঁর দাবি, বিপর্যয়ের আগে চিনের তরফে নেপালকে কোনও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। সময়মতো তথ্য আদান-প্রদান হলে প্রাণহানির সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হত বলেই মনে করছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন মন্ত্রী জানান, গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় আচমকাই বরফ, কাদা এবং পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। তাঁর অভিযোগ, এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও চিন নেপাল প্রশাসনকে আগে থেকে কোনও সতর্কতা জানায়নি।
মাধব প্রসাদ চৌলাগেঁ আরও জানান, ২০২৫ সালে চিনের সীমান্তবর্তী এলাকায় একই ধরনের একটি হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয় ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর নেপাল ও চিনের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য এবং সতর্কবার্তা আদান-প্রদানের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, সময়মতো সতর্ক করা গেলে বহু মানুষকে বিপদসীমা থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হত।
তবে বিপর্যয়ের উৎস নিয়ে নেপাল ও চিনের বক্তব্যে রয়েছে বড় পার্থক্য। বেজিংয়ের দাবি, নেপালের দিক থেকেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। সেই দাবি মানতে নারাজ নেপালের প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিপর্যয়ের শুরু হয়েছিল তিব্বতের অংশে। তবে গোটা বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে আরও বিস্তারিত গবেষণা ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এই বিপর্যয়ে নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের কিছু এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতেই চিনের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, বিপর্যয়ে চিনের অংশে প্রকৃত কত মানুষ মারা গিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, সেই তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ করা হচ্ছে না। চিনা সমাজমাধ্যম থেকেও বিপর্যয়ের ছবি ও ভিডিয়ো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিন সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫৮ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এর বাইরে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে। সরকারি ভাবে মূলত উদ্ধারকাজ এবং জরুরি পরিষেবার খবরই সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে, নেপালে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত সেখানে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ হয়েছে। প্রায় ২,৫০০ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ২,৪০০-রও বেশি মানুষের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করতে নেপাল সরকার বড়সড় বাহিনী নামিয়েছে। নেপাল সেনার প্রায় ৫,০০০ জওয়ান-সহ মোট ১১,০০০ নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার অভিযান। নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গতদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।


