Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: যৌন হেনস্থার মামলায় প্রাক্তন WFI সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে দিল্লির আদালত খালাস দেওয়ার পর নতুন করে সরব হলেন অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাট (Vinesh Phogat)। আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। খুব শীঘ্রই হাইকোর্টে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। একই অবস্থান নিয়েছেন কুস্তিগীর বজরং পুনিয়াও।
রায়ের পর ভিনেশের প্রতিক্রিয়া
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন ভিনেশ ফোগাট (Vinesh Phogat)। সেখানে তিনি দাবি করেন, অভিযোগ দায়ের করা থেকে শুরু করে গোটা মামলার সময় জুড়েই প্রভাবশালী অভিযুক্তকে রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে।
ভিনেশ লেখেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে তাঁদের যথেষ্ট সাহস দেখাতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে কয়েকজন অভিযোগকারীকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্যও ভয় দেখানো হয়েছে।
হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করে ভিনেশ (Vinesh Phogat) জানান, অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগীরেরা তাঁদের আইনজীবীদের হাইকোর্টে আপিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আবেদন খুব শীঘ্রই দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, এই রায়ে তিনি হতাশ হলেও ন্যায়বিচারের লড়াই থেকে তাঁরা সরে আসবেন না। কুস্তিগীরদের আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিনেশের এই পোস্টটি করার পর তা নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন বজরং পুনিয়া। আদালতের রায়ের সঙ্গে তিনি একমত নন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অলিম্পিয়ান ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়াসহ দেশের একাধিক শীর্ষ কুস্তিগীর দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনে বসেন। তাঁদের দাবি ছিল, যৌন হেনস্থার অভিযোগে তৎকালীন WFI সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ শিবির এবং WFI অফিসে একাধিকবার যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ছয় অভিযোগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশ দুটি এফআইআর দায়ের করে। মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং এক নাবালিকার অভিযোগে পকসো আইনের ধারা যুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রাখার নির্দেশ থাকলেও পরে ভিনেশ ফোগাট প্রকাশ্যে জানান, তিনিও ওই ছয়জন অভিযোগকারীর একজন।
আদালতের রায়ে ব্রিজভূষণ আপাতত স্বস্তি পেলেও এই আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। অভিযোগকারী কুস্তিগীরেরা হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে দেশের ক্রীড়াজগতের অন্যতম আলোচিত এই মামলার পরবর্তী আইনি পর্বের দিকেই এখন নজর থাকবে।


