Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে (Madan Mitra) তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই মামলায় তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ED-র দাবি, কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় নিয়োগে অনিয়মের তদন্তে মদন মিত্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের পর এবার নিশানায় মদন মিত্র
গত ১৩ জুন মদন মিত্রের (Madan Mitra) সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ED। এরপর ১৪ জুলাই ফের মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং দুই ছেলে স্বরূপ ও শুভরূপ মিত্রকেও নোটিস পাঠায় ED। পরে তাঁরা পৃথক দিনে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। পরিবারের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে অর্চনা মিত্রকে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এবার পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের পালা শেষ হতেই ফের তদন্তকারীদের নজরে এলেন মদন মিত্র।
কী অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার?
ED-র তদন্তে দাবি করা হয়েছে, কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় অন্তত ১২৫ জনকে নগদ অর্থ বা সোনাদানার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের সূত্রে মদন মিত্রের (Madan Mitra) নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল বলেও সন্দেহ রয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় হয়নি।
উল্লেখ্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত হয় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও ডায়েরি থেকে। ED-র দাবি, সেই নথিতে একাধিক পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। তদন্তে অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই মামলায় ইতিমধ্যেই ১১১ কোটি টাকার সম্পত্তি ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং চার্জশিটও জমা দিয়েছে ED। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতির উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।


