30 C
Kolkata
Wednesday, April 15, 2026
spot_img

গরমে মেজাজ সপ্তমে ! মাঝপথেই মিছিল ছাড়লেন ক্ষুব্ধ বিজেপি নেত্রী!

Aaj India Desk, হুগলি : বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিজেপির অন্দরমহলের অস্বস্তি। এবার সেই ছবি ধরা পড়ল হুগলির চুঁচুড়ায়, যেখানে ‘নববর্ষের শঙ্খনাদ’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে মাঝপথেই ফিরে যান কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)।

কেন মাঝপথে ফিরলেন স্মৃতি?

মঙ্গলবার চুঁচুড়ার গেট নম্বর ৩ এলাকায় বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে ‘নববর্ষের শঙ্খনাদ’ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। তবে তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কর্মসূচি শুরু হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। পাশাপাশি, হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে স্বাগত জানাতে দেখা যায়নি বলেও দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্মৃতি ইরানি শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখান থেকে চলে যান।

সূত্রের খবর, চুঁচুড়ার ঘড়িঘর চত্বরে সভা করার কথা ছিল স্মৃতি ইরানির। পাশাপাশি বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সূচনাও তাঁর হাতেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ।

ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে সামনে আসেন সুবীর নাগ। তিনি বলেন, “স্মৃতি ইরানির (Smriti Irani) অন্য জরুরি কর্মসূচি ছিল, তাই তিনি ফিরে যান।” তবে তিনি স্বীকার করেন, নেত্রীকে সরাসরি না পেয়ে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কি এখনও অমীমাংসিত?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গোটা ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি সাংগঠনিক ত্রুটি নয়, বরং হুগলিতে বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্দরকলহেরই প্রতিফলন। জেলা সভাপতির অনুপস্থিতি এবং কর্মসূচির সময়সূচি নিয়ে বিশৃঙ্খলা এই দুই দিকই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এখনও কাটেনি। বিশেষ করে পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে টানাপোড়েন যে রয়েছে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আরও একবার সামনে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সামনে রেখে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করার পরিকল্পনা থাকলেও, মাটির স্তরে সেই বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছয়নি।

উল্লেখ্য, আগামী সপ্তাহ থেকেই বঙ্গে নির্বাচনের শুরু হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন পরিস্থিতি দলীয় সংগঠনের জন্য অস্বস্তিকর বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাঁদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য অসংগতি শুধু কর্মীদের মনোবলেই প্রভাব ফেলে না, বিরোধীদের হাতেও রাজনৈতিক ইস্যু তুলে দেয়। ফলে ভোটের মুখে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গেলে অভ্যন্তরীণ মতভেদ দ্রুত মেটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বিজেপির জন্য।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন