30 C
Kolkata
Tuesday, September 15, 2026
spot_img

সরকার বদলেছে, বদলাল না কমিশনের সিদ্ধান্ত—উপনির্বাচনেও কেন্দ্রীয় বাহিনী?

Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও আসন্ন উপনির্বাচনে (By-election) নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন (ECI)। অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করাতে নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও রেজিনগর (রেজীনগর) —এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। অর্থাৎ দুই কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। বুথ এবং তার আশপাশের স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটের আগে থেকেই এলাকায় টহল ও রুট মার্চ করবে বাহিনী।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতির জন্য ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রামে মোট ২৮২টি বুথ এবং রেজিনগরে ৩১৫টি বুথ রয়েছে। ফলে প্রতিটি বুথে যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকে, সেদিকেও নজর রাখছে কমিশন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এবং রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজেদের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। এর পরেই ওই দুই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোট হবে।

ইতিমধ্যেই ভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ শেষ হবে। মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করার পর ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

তবে ভোটের আগে আরও একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কালীঘাট এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার এখনও কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কিন্তু জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ পাবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।

এর মধ্যেই দুই শিবিরই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখ প্রার্থী হয়েছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিক থেকেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বড়সড় মোতায়েনের সিদ্ধান্তেই তার ইঙ্গিত মিলছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন