Aaj India Desk, কলকাতা: আরজি কর (RG Kar Case) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের তৎপর সিবিআই (CBI)। নতুন করে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট তৈরি করে মামলার তদন্ত চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে (Sealdah Court) এই মামলার ১৩তম স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এদিন আদালতে শুনানি শেষ হওয়ার পর নির্যাতিতার বাবা-মা জানান, নতুন তদন্তকারী দল আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে তদন্তের গতি নিয়ে এখনও তাঁদের মনে যথেষ্ট ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। আদালত চত্বরে নির্যাতিতার বাবা বলেন, মূল অপরাধীরা এখনও বাইরে ঘুরে বেড়ালেও বেশিদিন তা সম্ভব হবে না।
সিবিআইয়ের উপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, অপরাধীদের শেষ পর্যন্ত শাস্তি পেতেই হবে। তাঁর কথায়, রাজ্য পুলিশের যতটা ক্ষমতা রয়েছে, তারা সেই অনুযায়ী কাজ করবে। কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিবিআইকেই নিতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের ১৪০ কোটি মানুষ এই মামলার বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
এই মামলার তদন্ত প্রথমে শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তদন্তের পর সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই।
তবে সিবিআইয়ের চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে দেখানোর পর থেকেই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে নির্যাতিতার পরিবার। পুরনো তদন্তকারী দলের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় পরিবার। সেই অভিযোগের পর হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে তদন্তের জন্য সিবিআই একটি বিশেষ দল গঠন করে। নতুন দল আগের দলের তুলনায় কাজ করছে বলে মেনে নিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তবে তাঁর অভিযোগ, তদন্ত যে গতিতে এগোনো প্রয়োজন ছিল, এখনও সেই গতি দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া সিবিআইয়ের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময়কার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ ফের খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্যাতিতার শেষকৃত্যের সময় পানিহাটি শ্মশানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন এবং আরজি কর হাসপাতালের একাধিক কর্মী ও আধিকারিকের বয়ানও নতুন করে নেওয়া হয়েছে। এই মামলায় পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২০ নভেম্বর শিয়ালদহ আদালতে।


