কলকাতা: অপরাধ রুখতে আইন-শৃঙ্খলা, তদন্ত, বিচার! এসবের পাশাপাশি এবার হাতে উঠতে পারে গীতাও? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিনব ‘ফর্মুলা’ দিচ্ছে তেমনই ইঙ্গিত! বুধবার বেলঘরিয়ার আদ্যাপীঠে পুজো দিতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে মিলল রাজনীতি, ধর্ম ও সমাজসংস্কারের একেবারে মিশ্র ‘প্যাকেজ’।
মনের ‘পাপ’ দূর করতে মানুষকে গীতা পড়ানোর পরামর্শ দিলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, গীতাপাঠে আধ্যাত্মিক জাগরণ ঘটলে আর জি করের মতো ঘটনাও হয়তো ঠেকানো সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চর্চা।
আদ্যাপীঠে এদিন মূল ফটক ও একটি অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। গোশালায় গিয়ে গোমাতার সেবাও করেন। এরপর আদ্যা মায়ের পুজো ও আরতি। আর সেই পর্বেই এল ‘আধ্যাত্মিক জাগরণ’-এর ডাক। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) কথায়, কলকাতা শুধু সাংস্কৃতিক পীঠস্থান নয়, আধ্যাত্মিক রাজধানীও। তাঁর মতে, সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে মানুষের সেবার মানসিকতা রয়েছে। পাশাপাশি গেরুয়া রঙের মাহাত্ম্য বোঝানোর কথাও বলেন তিনি (Suvendu Adhikari)। যদিও তাঁর স্পষ্ট দাবি, “গেরুয়া রং কোনও রাজনৈতিক রং নয়, এই রং কৃচ্ছসাধনের।”
আর জি করের প্রসঙ্গ টেনে গীতাপাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা বলায় অবশ্য প্রশ্ন উঠছে, অপরাধীর মনের ‘পাপ’ কাটাতে এবার কি থানার আগে গীতার ক্লাস বসবে? নাকি আধ্যাত্মিক শিক্ষা হবে আইনশৃঙ্খলার নতুন সহায়ক মডেল? প্রতিবারের মত এদিনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা শোনা যায় শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মুখে। অযোধ্যার রামমন্দির থেকে কাশী বিশ্বনাথ, সনাতনী আবেগের একাধিক প্রসঙ্গ উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
সব মিলিয়ে আদ্যাপীঠের মঞ্চ থেকে যেন এক নতুন ‘ফর্মুলা’ সামনে এল, অপরাধ কমাতে চান? গীতা পড়ুন, আধ্যাত্মিক হন, আর গেরুয়ার মাহাত্ম্য বুঝুন! তবে বাস্তবে এই আধ্যাত্মিক প্রেসক্রিপশন কতটা কাজ করবে, আর অপরাধ দমনে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী? সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতে।


