Aaj India Desk, কলকাতা : ১০৮ বছরের প্রাচীন বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর কমিটি (Bagbazar Durga Puja) গঠন নিয়ে আইনি জট অবশেষে কাটল। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য জানিয়ে দিলেন, যে প্রক্রিয়ায় পুজো কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা সঠিক। ফলে বহাল রইল নিম্ন আদালতের রায়। আবেদনকারী রবিশংকর সেনগুপ্তের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
সমান ভোটেই তৈরি হয়েছিল জট
গত ৩০ আগস্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশে দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির (Bagbazar Durga Puja) নির্বাচন হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদে ফল প্রকাশের সময় তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গৌতম নিয়োগী এবং ভাস্কর নিয়োগী দু’জনেই পান ৩৩টি করে ভোট। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, তাঁরা একই পরিবারের দুই ভাই। শুধু সাধারণ সম্পাদক পদেই নয়, ১২ জন কার্যকরী সদস্যের মধ্যে চারটি পদেও সমান ভোটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে প্রার্থীরা ৩২টি করে ভোট পান। তবে কোষাধ্যক্ষ পদে অবশ্য কোনও জট তৈরি হয়নি।
‘কাস্টিং ভোট’ নিয়েই ফের আদালতে
সমান ভোটের জট কাটাতে আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষক নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একটি পক্ষের দাবি ছিল, এমন পরিস্থিতিতে সভাপতির ‘কাস্টিং ভোট’-এর মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্য পক্ষ সেই পদ্ধতি মেনে নেয়নি। এর পর ফের নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। নিম্ন আদালত জানায়, সভাপতি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সেই রায়ের পরই বিষয়টি পৌঁছয় কলকাতা হাই কোর্টে।
পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ
দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভিতরে অশান্তি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও ওঠে। এক মহিলা সদস্যও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ জানান। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই রায় ঘোষণা করে হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, কমিটি গঠনের যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা সঠিক।
উল্লেখ্য, বাগবাজার পুজো কমিটির (Bagbazar Durga Puja) নির্বাচন এর আগে ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের নির্বাচন ঘিরেই তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত নিম্ন আদালতের নির্দেশ, পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং পরবর্তী হাই কোর্টের রায়ের মাধ্যমে সেই জটের অবসান হল। এবার ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা কাটতেই খুশি বাঙালিরা।


