কলকাতা: জল্পনার অবসান। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram bypoll 2026) বিজেপির হয়ে লড়বেন শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা তাঁর। আর তার আগেই হলদিয়ায় হাসিরানিকে পাশে নিয়ে সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঞ্চ থেকেই কার্যত জয়ের বার্তা দিয়ে দিলেন তিনি।
নন্দীগ্রামের মানুষকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দুর ঘোষণা, “সকলের মাথায় ছাদ, হাতে কাজ, পেটে ভাত আমার অঙ্গীকার। আমি পূরণ করবই।” শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিই নয়, ভোটের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, এবারও এমন ব্যবধানে বিজেপি জিতবে, যা অনেকেরই কল্পনার বাইরে।
মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “আমি ভোট করাতে জানি। এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব, কেউ ভাবতে পারছেন না।” একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি। দাবি করেন, “ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে এসেছি।”
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হত তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নিজের শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামই ছেড়ে দেন তিনি। ফলে আসনটি বিধায়কশূন্য হয়ে যায়।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্র থেকেও জয়ী হন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীর। ফলে এই দুই কেন্দ্রও বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর এই তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। কয়েক দিন আগেই বিজেপি বাদে প্রায় সব দলই নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল। ফলে নন্দীগ্রামে বিজেপি কাকে প্রার্থী করে, তা নিয়েই ছিল মূল কৌতূহল।
জল্পনা ছিল, শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানিকে প্রার্থী করা হতে পারে। মঙ্গলবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।
প্রার্থী ঘোষণার পরই হাসিরানিকে পাশে নিয়ে হলদিয়ায় সভা করেন শুভেন্দু। আর সভা শেষে পায়ে হেঁটেই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যান তিনি। নন্দীগ্রামের মাটিতে এবার তাই শুধু উপনির্বাচনের লড়াই নয়, শুভেন্দুর ‘গড়’ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও। আর প্রার্থী হাসিরানি রথকে সামনে রেখে বিজেপির এই লড়াই কতটা জোরালো হয়, এখন নজর সেদিকেই।


