কলকাতা: ৪ মে ১২৭ আসনের ব্যবধানে জিতে মমতার ১৫ বছরের দুর্গ গুঁড়িয়ে দেয় বিজেপি! আর ঠিক তার দুদিনের মাথায় খুন হন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath murder case)! আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে সেই চন্দ্রনাথের মা-কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর সেই খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি ‘ভাইপো গ্যাং’-এর দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের মনোনয়ন পেশের দিনই তাঁর এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
মঙ্গলবার শুভেন্দুর দাবি, “চন্দ্রনাথ রথ খুনের (Chandranath murder case) পিছনে রয়েছে ‘ভাইপো গ্যাং’ এবং শুটারদের ২ কোটি টাকা সুপারি দেওয়া হয়েছিল।” তাঁর কথায়, ঘটনার নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন।
এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনি ডায়মন্ড হারবারের একাধিক ব্যক্তির কল রেকর্ডিং শুনেছেন। সেই রেকর্ডিংয়েই নাকি ঘটনার নেপথ্যের যোগসূত্র স্পষ্ট হয়েছে। তবে মামলা এখনও বিচারাধীন বলে এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ মে। সেদিনই প্রকাশিত হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের ফল। তার মাত্র দু’দিন পর, মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার পথে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে (Chandranath murder case)। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তদন্তভার নেয় সিবিআই। এখনও পর্যন্ত চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু খুনের নেপথ্যে আসল মাথা কে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।
আর এবার সেই প্রশ্নেই বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর। তাও আবার এমন দিনে, যেদিন চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন।
শুভেন্দুর কথায়, “সত্যি চেপে রাখা যায় না।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলে তাঁর দাবি, সময় এলেই আরও তথ্য সামনে আসবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, প্রমাণ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর এমন কথা বলার কথা নয়। সত্যিই যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার থেকে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থাৎ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে হাসিরানি রথের মনোনয়ন ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, ঠিক তখনই চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড (Chandranath murder case) নিয়ে শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক দাবি ভোটের লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের সত্যতা কী, তা অবশ্য তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।


