Aaj lndia Desk, মুম্বই : টিসিএস–নাসিক কাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ক্রমশ বাড়ছেই। প্রতিদিন সামনে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা অভিযোগ। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এইচআর কর্মী নিদা খান। অফিস চত্বরে ধর্মান্তর ও যৌন অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এতদিন বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগের স্রোত চললেও, অবশেষে মুখ খুলল তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS)। উঠতে থাকা একাধিক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সংস্থার তরফে জানানো হল তাদের অবস্থান।
শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে টিসিএস জানায়, নাসিক ইউনিটের সিস্টেম ও নথিপত্রের প্রাথমিক খতিয়ে দেখায় উত্থাপিত অভিযোগের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। সংস্থার দাবি, ‘এথিক্স’ এবং POSH (Prevention of Sexual Harassment) মেকানিজমের মাধ্যমেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি।তবে ঘটনার গুরুত্ব অস্বীকার না করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে টিসিএস। ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ নজরদারি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাহ্যিক সংস্থাকেও যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন কেকি মিস্ত্রি, যাতে পুরো তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই সাত জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ছয় জন পুরুষ এবং এক জন মহিলা রয়েছেন। পুরো ঘটনার সূত্রপাত এক মহিলার অভিযোগ ঘিরে। তাঁর দাবি, সহকর্মী দানিশ শেখ ২০২২ সালে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান, যদিও সেই সময় তিনি ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং তড়িঘড়ি তদন্তে নামে পুলিশ।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নৈতিক মানদণ্ড নিয়েও উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। যদিও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
টিসিএস তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নিদা খান সংস্থার এইচআর ম্যানেজার নন এবং নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল না। তিনি মূলত একজন প্রসেস অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত ছিলেন, নেতৃত্বমূলক কোনও ভূমিকায় ছিলেন না বলেই দাবি সংস্থার ।তবে অভিযোগের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। শুধু মহিলা কর্মীরাই নয়, নাসিক শাখায় এক পুরুষ কর্মীর উপরও অত্যাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। দাবি করা হয়েছে, ওই কর্মীকে ধর্মীয় আচার পালনে জোর করা হত টুপি পরিয়ে নামাজ পড়া ও কলমা পাঠ করতে বাধ্য করা হতো। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।এই সব অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত হয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।


