Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, তত রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। এর মধ্যেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) সোনারপুরের নির্বাচনী প্রচার সভাকে কেন্দ্র করে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে তীব্র অসুবিধার সম্মুখীন এলাকার সাধারণ মানুষ।
আগাম সতর্কতা না থাকায় বিপাকে সাধারণ মানুষ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে আগাম কোনও স্পষ্ট নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনের মতোই কাজে বেরিয়ে পড়ে বহু মানুষ হঠাৎ করেই পরিবহণ বন্ধের মুখে পড়েন। অফিসগামী থেকে শুরু করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া পরিবার, সবাইকে পড়তে হয় বিপাকে। বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই দীর্ঘপথ হেঁটে আসতে বাধ্য হন।
সূত্র অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) বারুইপুরের সভা চলাকালীন সময় থেকেই সোনারপুরে নিরাপত্তার খাতিরে রাস্তা ফাঁকা করার কাজ শুরু হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ভিআইপি মুভমেন্ট নির্বিঘ্ন করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সভার এত আগেই কেন সম্পূর্ণভাবে পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হল তা নিয়ে কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।
মাঠে কৃত্রিম ভিড় তৈরির চেষ্টার অভিযোগ
সোনারপুরের বলাকা মাঠে আয়োজিত এই সভা ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২০০০ জন ধারণক্ষমতার মাঠে তার চেয়ে অনেক বেশি ভিড় দেখাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আনা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় দোকানদার, অটোচালক এমনকি গৃহবধূদেরও সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছিল, যাতে জনসমাগম বেশি দেখানো যায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) সভাকে কেন্দ্র করে আসা কর্মী-সমর্থকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য একটি স্থানীয় স্কুলের মাঠ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই দিন স্কুল বন্ধ রেখে মাঠে বিশ্রামের ব্যবস্থাও করা হয় বলে জানা গিয়েছে। চারপাশে দলীয় পতাকা দিয়ে সাজানোর ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ।
এই গোটা ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এমন ব্যবস্থা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের মরসুমে বড় নেতাদের সভা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা নতুন কিছু নয়, তবে সেই ব্যবস্থার ফলে যদি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তার ভারসাম্য রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


