Aaj India Desk, কলকাতা : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে (RG Kar Rape and Murder Case) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দু’বছর পর গোটা ঘটনার পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। নিহত চিকিৎসকের মা ওরফে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট’-এর আওতায় এই পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, নির্যাতিতার দাহপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আইনি গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় পৃথক মামলা দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনটি বিষয়ে সিবিআই তদন্ত
আদালতের নির্দেশে সিবিআই আরজি কর মামলায় (RG Kar Rape and Murder Case) মূলত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন, ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট রাতে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর এবং আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এই তিনটি বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই বিষয়গুলিতে রাজ্য পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে দাহপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে।
দাহপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ
শুভেন্দুর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নিহত চিকিৎসকের দাহকার্যের ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, দাহের সিরিয়ালে মৃতদেহটি তৃতীয় স্থানে থাকার কথা থাকলেও তা রাতারাতি বদলে প্রথম করা হয় এবং দ্রুত সৎকার সম্পন্ন করা হয়। এছাড়াও শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের তরফে দেওয়া হয়নি এবং পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এই ঘটনায় নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জির নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। স্মরণসভায় উপস্থিত ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে মঞ্চ থেকেই অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দাহপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত রাজ্য পুলিশ স্বাধীনভাবে করবে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা অভয়া বোনকে ভুলিনি।” ন্যায়বিচারের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Rape and Murder Case) দু’বছর পূর্তিতে পুনর্তদন্তের এই ঘোষণা মামলাটিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে, বিশেষ কমিশনের আওতায় প্রস্তাবিত পুনর্তদন্তে কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং দাহপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত পৃথক তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে।


