Aaj India Desk, কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট (Camac Street) – এ পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের তদন্তে আরও একজনকে যুক্ত করা হল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যা (Abhishek Banerjee) র আপ্তসহায়ক সুমিত রায়(Sumit Roy)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। রবিবার তাঁর নিউ আলিপুরের বাসভবনে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেন তদন্তকারীরা। আগামী বুধবার থানায় এসে বক্তব্য নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে তাঁকে।
পুলিশের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু এখন বৃহস্পতিবারের সেই ঘটনা, যেখানে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে একটি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সুমিত ওই ঘটনার সময়ে কী অবস্থানে ছিলেন, কোনও নির্দেশ বা ভূমিকা ছিল কি না, কিংবা ঘটনাটির সঙ্গে তাঁর অন্য কোনও যোগ রয়েছে কি না জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
পুরসভার কর্মীরা ওই দিন দফতরের সামনে থাকা বিলবোর্ডটি সরাতে যান। কলকাতা পুরসভার বক্তব্য, তৃণমূলের নাম যুক্ত কাঠামোটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। তাদের আরও দাবি ছিল, বিলবোর্ডটি এমন অবস্থায় ছিল যে সেটি পথচারী বা আশপাশের মানুষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। সেই কারণেই সেটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কাজ শুরু হওয়ার পরেই বাধার মুখে পড়েন পুরকর্মীরা বলে অভিযোগ। পুলিশের সহায়তায় অফিসে প্রবেশের চেষ্টা ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে বিক্ষোভের পাশাপাশি ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, মহিলাদের হেনস্থার চেষ্টা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের পাশাপাশি তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের নামও রয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সুমিত রায়কে ঘিরে অবশ্য এর আগেও তদন্ত হয়েছে। শালবনি থানায় জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের সময় তাঁকে খুঁজতে পুলিশ অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছেছিল। সেই অভিযান ঘিরে বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশির অভিযোগ ওঠে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক হয়। পরবর্তীকালে সুমিতের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের হওয়ার কথাও জানা যায়।
চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তে তাঁকে সিআইডির কাছে একাধিকবার হাজির হতে হয়েছে। এবার ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদে সেই বিষয়টিই যাচাই করার চেষ্টা করবে পুলিশ।


