Aaj India Desk,কাঠমান্ডু: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। ত্রিশূলী নদীর উপত্যকার বিভিন্ন গ্রামের বহু বাসিন্দা এখনও নিখোঁজ। প্রিয়জনের সন্ধানে স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে বিপর্যয় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, দুর্যোগের পরে এলাকায় তিনটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলি ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
বুধবারের ঘটনার পর থেকেই এত বিশাল জলরাশি কীভাবে এত দ্রুত পাহাড় বেয়ে নীচে নেমে এল, তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল, প্রায় ৫ হাজার মিটার বা তারও বেশি উচ্চতায় হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছিল। ওই হিমবাহের অংশের আয়তন প্রায় এক কিলোমিটার হতে পারে। ধসের পর বরফের সঙ্গে জলও নীচের দিকে ছুটে আসে। প্রবল গতির সেই স্রোত পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামার সময় রাস্তার মাটি, পাথর এবং নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষকে সঙ্গে টেনে নেয়।
সঞ্জিৎ সিং বালসাইদের বিশ্লেষণে জানা যায়, তিব্বতের দিকের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছনোর আগেই প্রবাহটি প্রায় ৩ হাজার মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে নীচে নেমেছিল। সংকীর্ণ গিরিখাতের ভিতর দিয়ে জল ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ এগোনোয় তার সমস্ত শক্তি কার্যত একটি নির্দিষ্ট পথে কেন্দ্রীভূত হয়। এর ফলে বিপর্যয়ের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
হিমবাহ ও পাহাড় নিয়ে গবেষণাকারী ধনঞ্জয় রেগমির দেওয়া হিসাব আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, জল ও ধ্বংসাবশেষের সম্মিলিত স্রোতের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অর্থাৎ পূর্বের অনুমানের তুলনায় বিপর্যয়ের গতি ছিল অনেক বেশি।
এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল ওই তিন নতুন হ্রদ। ভবিষ্যতে বড় কোনও পাথরধস বা ভূমিধস হলে তার অভিঘাত হ্রদগুলির উপর পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ফের বিপুল জল নেমে বন্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জল নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দেওয়া গেলে ঝুঁকি কমতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। যদিও এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার খবর নেই।
প্রথমদিকে মনে করা হয়েছিল, এই তিন হ্রদের কোনও একটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়াই হড়পা বানের কারণ। কিন্তু ‘স্নোস্কেপস’-এর ম্যানেজিং পার্টনার আশুতোষ মিশ্র জানিয়েছেন, পরে উপগ্রহচিত্র পরীক্ষা করে সেই ধারণা ঠিক নয় বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। বরং লাংটাং লিরুংয়ের উত্তর দিকে প্রায় ২ বর্গকিলোমিটার জুড়ে হিমবাহ ধসের চিহ্ন পাওয়া যায়। লাংটাং লিরুংয়ের উচ্চতা প্রায় ৭ হাজার মিটার।
ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে স্থানীয়দের কাছে এখন এসব আলোচনার চেয়ে নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারই প্রধান বিষয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাসিন্দাদের উঁচু ও তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বজনের ছবি হাতে এক স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সেই মানবিক উদ্বেগ। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ভাইকে খুঁজছেন ঠিকই, কিন্তু বিপদে পড়া প্রত্যেক মানুষকেই উদ্ধার করতে হবে। তাঁর কথায়, তাঁর নিজের একজন ভাই থাকলেও অন্য নেপালিরাও তাঁদের ভাইয়ের মতোই।


